Views: 0
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণ করায় তালতলী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ মানজুরুল হক কাওছারকে শোকজ করার ঘটনায় বরগুনায় তীব্র উত্তেজনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনা পালন করার পরও এই শোকজ প্রশাসনের চরম সমন্বয়হীনতা ও দ্বৈতনীতির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। জানা গেছে, গত ১১ জানুয়ারি বিভাগীয় কমিশনারের স্পষ্ট নির্দেশনার পর ১২ জানুয়ারি আমতলী উপজেলায় একটি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গণভোটের প্রচারণা চালানো হয়। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর উপস্থিতিতে এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হলেও, সেই দিনই তালতলী কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অজুহাতে বরগুনা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম ওই কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশ প্রদান করেন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, উক্ত গণভোট কার্যক্রমের তথ্য জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিজস্ব অফিসিয়াল অনলাইন গ্রুপেও শেয়ার করা হয়েছিল। অথচ উপ-পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম এই দায়িত্ব পালনকে ‘এক ধরনের দুষ্টামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে জানান যে, সমাজসেবা অফিসের আয়োজিত ওই সচেতনতামূলক সভায় তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন; তাই এমন শোকজ তাঁর কাছে বোধগম্য নয়। স্থানীয়রা বলছেন, রাষ্ট্রীয় নির্দেশ পালনের জন্য যেখানে পুরস্কার পাওয়ার কথা, সেখানে শোকজ করা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পেশাগত মর্যাদাহানি এবং মনোবল ভেঙে দেওয়ার শামিল। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই ‘হয়রানিমূলক’ শোকজ প্রত্যাহারের পাশাপাশি তালতলী উপজেলায় স্থায়ী সমাজসেবা কর্মকর্তা নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন।