Views: 0
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি দিতে একটি ঐতিহাসিক অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানান, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়ে আইনে পরিণত হবে।
এই অধ্যাদেশের ফলে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের লক্ষ্যে পরিচালিত কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য কাউকে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো যাবে না।
আইন উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কার্যাবলীর জন্য অংশগ্রহণকারীদের যাবতীয় ফৌজদারি দায়-দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে যদি কারও বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত মামলা হয়ে থাকে, সরকার সেগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে।
তবে ব্যক্তিগত স্বার্থ, লোভ বা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতা এই দায়মুক্তির আওতায় পড়বে না। কোনো ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিরোধ নাকি ব্যক্তিগত স্বার্থে—তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে।
যদি কোনো ভুক্তভোগী পরিবার মনে করে তাদের স্বজন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন, তবে তারা কমিশনে আবেদন করতে পারবেন। কমিশন তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দেবে, তা আদালতে পুলিশের প্রতিবেদনের মতোই গণ্য হবে। এছাড়া আইন উপদেষ্টা আরও জানান, গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক হয়রানিমূলকভাবে দায়ের করা প্রায় ২০ হাজার মামলা ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ৩১ জানুয়ারির মধ্যে একটি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হবে।