Views: 7
নতুন বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশের পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি রক্ষা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত দীপেন দেওয়ান উপস্থিত হয়ে দুর্গম পাহাড়ের জন্য তাঁর পরিকল্পিত উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পাহাড়ের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের এক নতুন সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহলের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৈঠকে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান স্পষ্টভাবে জানান যে, পার্বত্য অঞ্চলের অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তিনি পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে তিন পার্বত্য জেলা—রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সার্বিক উন্নয়নকে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি এই অঞ্চলের পর্যটন ও কৃষি খাতের প্রসারেও নতুন সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এই শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সকল জাতিগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। পাহাড়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মাধ্যমে দেশের মূল অর্থনীতির ধারায় এই অঞ্চলকে সম্পৃক্ত করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের কাছে দীপেন দেওয়ানের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ এক বিশাল প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এলাকাবাসী ও সুধীজনরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তিনি রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই তিন পার্বত্য জেলার সুযোগ্য অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাহাড়ের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা সরাসরি মন্ত্রিসভায় তুলে ধরে সমাধান আনতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে সাধারণ মানুষ গভীরভাবে বিশ্বাস করে। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে পাহাড়ি জনপদে উন্নয়নের যে জোয়ার শুরু হবে, তা আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় অনন্য অবদান রাখবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাহাড়ের দুর্গম জনপদগুলোতে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে পুরো বাংলাদেশের চিত্র বদলে যাবে। দীপেন দেওয়ানের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতার অভিভাবকত্বে তিন পার্বত্য জেলার মানুষ এক নতুন দিগন্তের স্বপ্ন দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই উন্নয়ন পরিকল্পনা পাহাড়ের তৃণমূল মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।