সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

মানিকগঞ্জ-২: ত্রিমুখী লড়াইয়ের হাড্ডাহাড্ডি সমীকরণে নীরব বিপ্লবের আভাস
কামরুল হাসান, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: / ৯৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
একটি ছবিতে তিনটি আলাদা নির্বাচনী প্রতীক দেখা যাচ্ছে: দেয়াল ঘড়ি, ধানের শীষ এবং লাঙ্গল। এই প্রতীকগুলো একটি গ্রামীণ নির্বাচনী জনসভার আবছা পটভূমির সামনে স্থাপন করা হয়েছে, যা মানিকগঞ্জ-২ আসনে একটি ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্দেশ করছে।
মানিকগঞ্জ-২ আসনে এবার ভোটের যুদ্ধ ত্রিমুখী!

Views: 1

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জটিল ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে মানিকগঞ্জ-২ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে মুখিয়ে আছেন সাধারণ ভোটাররা। প্রতীকী লড়াইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এবারের নির্বাচন এখন রূপ নিয়েছে আদর্শ, ব্যক্তিত্ব এবং পরিবর্তনের লড়াইয়ে। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হেভিওয়েট তিন প্রার্থীকে ঘিরে আসনটিতে তৈরি হয়েছে এক ত্রিমুখী সমীকরণ, যা ভোটের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

নির্বাচনী মাঠে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিন হেভিওয়েট প্রার্থী। এর মধ্যে ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী শেখ সালাহ উদ্দিন (দেয়াল ঘড়ি) ইসলামী আদর্শ, নৈতিকতা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নজর কেড়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির মঈনুল ইসলাম শান্ত (ধানের শীষ) দলীয় ঐতিহ্য ও শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর ভর করে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম মান্নান (লাঙ্গল) তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং গত কয়েক বছরের ব্যক্তিগত যোগাযোগকে পুঁজি করে মাঠে লড়ছেন।

সিংগাইর ও হরিরামপুর উপজেলার ভোটারদের মধ্যে এবার এক নীরব বিপ্লবের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির মাটি কাটা, অবৈধ ইটভাটার দাপট, নদী-খাল দখল এবং বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বেকারত্ব দূরীকরণ ও মাদকের বিস্তার রোধ এখন প্রধান দাবি। এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি চাই না, কাজ চাই। ফসলি জমির মাটি কেটে শেষ করে ফেলছে, এটা বন্ধ করার হিম্মত কার আছে, আমরা সেটাই দেখছি।” সচেতন ভোটারদের মতে, এবার প্রতীক দেখে নয়, বরং প্রার্থীর সততা, সাহসিকতা এবং অতীত কর্মকাণ্ড বিচার করেই রায় দেবে মানিকগঞ্জ-২ আসনের মানুষ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানিকগঞ্জ-২ আসনে এবার একক কোনো প্রার্থীর নিরঙ্কুশ আধিপত্য নেই। বিএনপির দলীয় শক্তি, জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর আদর্শিক ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি—এই তিনের সংমিশ্রণে ভোটের ফলাফল যেকোনো দিকেই মোড় নিতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং দীর্ঘ সময় ভোট দিতে না পারা ‘সাইলেন্ট ভোটাররাই’ এবারের তুরুপের তাস। ভোটের দিন কেন্দ্রভিত্তিক উপস্থিতি এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হলে মানিকগঞ্জ-২ আসনে এক ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখবে দেশবাসী।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update