Views: 0
নতুন প্রজন্মের জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অনুপ্রেরণা চিরস্থায়ী করতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ধরে রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। ড. ইউনূস বলেন, “আমরা কেউই চিরস্থায়ী নই, কিন্তু আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকে সেই ব্যবস্থা আমাদের করে যেতে হবে।”
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ‘খেলার পুতুলে’ পরিণত হয়েছিল। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করা এবং ভুয়াদের চিহ্নিত করে জঞ্জালমুক্ত করা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি জানান, বিগত সরকারের সৃষ্ট বৈষম্য দূর করে মুক্তিযোদ্ধাদের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। বৈঠকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও একাত্তরের সংগ্রামের যোগসূত্র তুলে ধরে বলেন, চব্বিশের তরুণরা একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদেরই যোগ্য উত্তরসূরি।
আসন্ন গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও সফলভাবে নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান। তাঁরা ব্যক্তিগত পরিসরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার পক্ষে প্রচারণা চালানোর অঙ্গীকার করেন। প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশে বলেন, “অতীতের মতো কেউ এসে যেন পুনরায় গণ্ডগোল করতে না পারে, সেজন্য আপনাদের শক্ত থাকতে হবে। আমরা নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে আছি এবং নাগরিক হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাব।”