Views: 2
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের সমালোচনা করার আগে নিজেদের অতীত ও অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত। জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “১৯৭১ সালে আপনারা কোথায় ছিলেন? কাদের হয়ে কাজ করেছিলেন? সবাই জানে ৭১-এ জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের হয়ে কাজ করে আমাদের স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল।” বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের ফারাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই। সব দল অংশ নেওয়ায় সরকারও এই নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পবিত্র আমানত পছন্দের প্রার্থীকে দিতে পারবেন। নিজের রাজনৈতিক সততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি রাজনীতি করে সম্পদ গড়িনি, বরং নিজের সম্পদ বিক্রি করে জনগণের জন্য রাজনীতি করছি। আমি আপনাদের আমানতের খেয়ানত করব না।” হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি অভয় দিয়ে বলেন, “আপনাদের মনে কোনো ভয় রাখার প্রয়োজন নেই। আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। আমরা নির্বাচিত হলে সব ধর্মের মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি গড়ে তুলব।”
নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপির পক্ষ থেকে ৫০ লাখ মায়ের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচ সুবিধা পাবেন। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ এবং মায়েদের এনজিও ঋণ মওকুফের ঘোষণা দেন তিনি। তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আগামী দেড় বছরের মধ্যে ১ কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।