সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
অবশেষে মাথার চুল ফেলে যেভাবে গোপনে পালালেন ছাগলকান্ডের মতিউর দুই ভাই-বোনকে কামড় দেওয়া সাপটিকে হ’ত্যা করে হাসপাতালে নিয়ে এলেন স্বজনরা ছাগলকাণ্ডের মতিউর ও স্ত্রী-পুত্রের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বেনজীর আহমেদের স্ত্রী ও দুই মেয়ে সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হননি অটোরিকশার ধাক্কায় প্রা’ণ গেল নারী পথচারীর কৃষক বেঁচে থাকলে দেশে খাদ্যের অভাব হবেনা….খাদ্যমন্ত্রী সন্ধি একাডেমীর কন্ঠশিল্পী সুমির জন্মদিন পালিত ভাঙ্গায় মোটরসাইকেল, ভ্যান ও ট্রলির ত্রিমুখী সং’ঘ’র্ষে নি’হ’ত ১ বরগুনায় সেতু ভেঙে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস খালে, নি ‘ হ ‘ ত ৯ মহেশপুরে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল থেকে ২০ নারী-পুরুষ আ’ট’ক ফরিদপুরে স্বামী-স্ত্রীর ঝ’গ’ড়া স্ত্রীর আ’ত্ম’হ’ত্যা জলঢাকায় অ’না’থ কন্যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই চাঁদমনি আশ্রম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অনন্য উচ্চতায় : খাদ্যমন্ত্রী শ্রীপুরের কাঁঠাল দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব সালথায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এর কমিটি গঠন ও যোগদান সভা অনুষ্ঠিত রঙিন পোশাকে নেতাকর্মী নিয়ে আওয়ামী লীগের ‘প্লাটিনাম জয়ন্তী’ অনুষ্ঠানে খসরু চৌধুরী এমপির অংশগ্রহণ পলাশবাড়ীতে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত লাইনের উপর দুহাত তুলে দাঁড়ালো গৃহবধূ কে’টে চলে গেল ট্রেন দ্বীপ জেলা ভোলায় দেখা মিললো রাসেল’স ভাইপার

ভালো নেই বাঁশ শিল্পের কারিগররা।

বাঁশের তৈরি বিভিন্ন উপকরণকে জীবিকার প্রধান বাহক হিসাবে আঁকড়ে রেখেছে নীলফামারীর  জলঢাকা  উপজেলার গুটি কয়েক পরিবারের কিছু মানুষ। এই বাঁশই বর্তমানে তাদের জীবিকার প্রধান বাহক। কিন্তু দিন দিন বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পন্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভালো নেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগররা।

জলঢাকা  উপজেলা থেকে ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাশঁশিল্প। বাঁশের তৈরি পণ্যের কদর আর তেমন নেই বললেই চলে। ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এই শিল্পটি। গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থলি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যাবহার করলেও, এখন বিলুপ্তির পথে এ শিল্পটি।
এক সময় বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হতো বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র। এখন সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে চিরচেনা সেই চিত্র। এরপরেও উপজেলার গুটি কয়েক পরিবারের মানুষ ঐতিহ্য ধরে রাখাসহ জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশ আর বেঁতশিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।
বর্তমানে সল্প দামে হাতের নাগালে প্লাস্টিক সামগ্রী পাওয়াতে কদর বেড়ে যাওয়ায় কুটির শিল্পের চাহিদা এখন আর তেমন নেই। তাছাড়াও দুস্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এ শিল্পের কাঁচামাল বাঁশ। এখন আর আগের মতো বাড়ির আশে-পাশে বাঁশের ঝোপ রাখছে না কেউ, সেগুলো কেটে বিভিন্ন চাষাবাদসহ দালান তৈরি করছে মানুষ, তাই কাঁচামাল আর আগের মতো সহজেই পাওয়া যায় না। বাজারগুলো দখল করেছে প্লাস্টিক, এলুম্যানিয়াম, স্টিলসহ বিভিন্ন দ্রব্য। তাছাড়াও প্লাস্টিক ও অন্যান্য দ্রব্যের পণ্য টেকসই ও স্বল্পমূল্যে পাওয়ায় সাধারণ মানুষের চোখ এখন সেগুলোর ওপর।
জানা যায়, এক সময় দেশের বিস্তীর্র্ণ জনপদে বাঁশ দিয়ে তৈরি হতো গৃহস্থালী ও সৌখিন পণ্যসামগ্রী। বাড়ির পাশের ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ কেটে গৃহিণীরা তৈরি করতেন হরেক রকমের পণ্য। এছারাও বিভিন্ন পণ্য তৈরি করতে বাশঁ ক্রয় করে আনতে হয় দক্ষিণ অঞ্চল  থেকে। তৈরিকৃত পন্য নিজেদের ব্যাবহারের পাশাপাশি, বাজারে বিক্রি করে চলতো তাদের জীবন-যাপন। তবে এখনও গ্রামীণ উৎসব ও মেলাগুলোতে বাঁশের তৈরি কুলা, চালুন, খাঁচা, মাচাং, মই, চাটাই, ঢোল, গোলা, ওড়া, বাউনি, ঝুঁড়ি, ডুলা, মোড়া, মাছ ধরার চাঁই, মাথাল, বইপত্র রাখার র‌্যাকসহ বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বসে আছেন এ পেশার কারিগররা।

গোলমুন্ডা  বাজারে বাঁশ শিল্প বিক্রি করতে আসা মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ  ছেলে মোঃ আমিনুর রহমান   বলেন, শিল্পের দুর্দিনে হাতে গোনা কিছু সংখ্যক পরিবার শিল্পটিকে আঁকড়ে ধরে আছেন। অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্যপেশায় গেলেও পূর্বপুরুষের হাতেখড়ি এই পেশাকে কিছুতেই ছাড়তে পারেননি তারা। তাছারা বর্তমানে কাচাঁমালের দাম হওয়ায় আমাদের তৈরিকৃত পণ্যেরও দাম বেশি নিতে হয়। প্রতিহাটে যা বিক্রি করি তা দিয়ে সংসার চালানো আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দারিয়েছে। সরকার যদি আমাদের দিকে দৃষ্টি দেন তাহলে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে দিন কাটাতে পারবো।

গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ভাবনচুর  এলাকার প্রবীণ মো: সিরাজুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম  জানান জীবনের সব সময়টা পার করেছি বাশেঁর তৈরি বিভিন্ন  পণ্যদিয়ে। যতই দিন যাচ্ছে ততই কমে যাচ্ছে এই হস্তশিল্পের চাহিদা। মূল্যবৃদ্ধি, বাঁশের দুষ্প্রাপ্যতা আর অন্যদিকে প্লাস্টিক, সিলভার ও মেলামাইন জাতীয় হালকা টেকসই সামগ্রী নাগরিক জীবনে গ্রামীণ হস্তশিল্পের পণ্যকে হটিয়ে দিয়েছে। এখন এ কাজ করে জীবন চালানো কঠিন ।

প্রতিদিন তাদের তৈরি কিছু পণ্য জলঢাকা  পৌর বাজারের সপ্তাহের দুইহাট সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটে ও গ্রাম-গঞ্জে নিয়ে ফেরি করলে, কিছু সৌখিন মানুষ আছে তাদের পণ্য কিনেন। বেলা শেষে যা বিক্রি হয় তা দিয়ে তরি-তরকারি কিনে বাড়ি ফেরেন তারা। এভাবেই তাদের জীবন-জীবিকা চলে। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমুলের দাম বেশি হওয়ায়, স্বল্প আয়ের এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page আমাদের পেজ লাইক করুন
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com