কক্সবাজার-টেকনাফ আরকান মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরিচ্যুত স্থানীয় শিক্ষকরা। সোমবার সকাল ৭টা থেকে সড়ক অবরোধ করার কারণে ক্যাম্পে দেশি-বিদেশি এনজিও সংস্থার কর্মরতরা যেতে পারছেন না।
চাকরি হারানো শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অর্থ সংকটের কারণে দাতাসংস্থা ইউনিসেফ ও অন্যান্য এনজিও সংস্থা তাদের চাকরি টালবাহানা করেছে। প্রশাসনের আশ্বাস পাওয়ার পরও কোনো সমাধান হয়নি। এজন্য তারা দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনে নেমেছেন।
স্থানীয় শিক্ষকদের প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম শামীম বলেন, আমরা বার বার স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা করেও কোন সিদ্ধান্ত না আসায় আবারো আন্দোলনে এসেছি, আমরা দাবি করছি, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পুনর্বহাল করা হোক এবং ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক।
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে রাস্তার দু’পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে গাড়ি আটকা পড়ে থাকে। তীব্র গরমে যাত্রী ও চালকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ক্যাভার্ডভ্যান চালক হাসেম বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকা। দুর্ভোগের শেষ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, দীর্ঘ ৩ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছি, খুবই কষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কিছু এনজিও কর্মী ক্যাম্পে যাওয়ার চেষ্টা করলেও আন্দোলনকারীদের বাধার কারণে যেতে পারেননি।
উল্লেখ্য, অর্থ সংকটের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১১৭৯জন স্থানীয় বাংলাদেশি শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তাদের চাকরি কেটে দেওয়া হয়েছে। তবে রোহিঙ্গা শিক্ষকরা এখনও দায়িত্বে বহাল আছেন। তাদের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে তারা জানান।
