
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং এর শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো রেফারেন্স ও মতামত প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল আবেদনটিও খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে এই আদেশ দেন। এই আদেশের ফলে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন চূড়ান্তভাবে বৈধ প্রমাণিত হলো বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর, রাষ্ট্রপতি দেশ পরিচালনার জন্য সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে মতামত চেয়েছিলেন। আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন রশিদ অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও শপথ নিয়ে রাষ্ট্রপতির রেফারেন্স প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করে আদেশে বলেন: “এক ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের উপদেশমূলক মতামত গ্রহণ করেছেন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন।
তাই এটি আইনি দলিল ও জনগণের ইচ্ছার সমর্থনপুষ্ট।” হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন, যা আজ খারিজ হলো। লিভ টু আপিলের পক্ষে আপিলকারী সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ মহসিন রশিদ নিজে শুনানি করেন।
ইন্টারভেনার (পক্ষ) হিসেবে শুনানিতে অংশ নেন: সিনিয়র আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া (লেখক ফিরোজ আহমেদের পক্ষে)। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
