শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

গাজীপুরে বিএনপির ‘সতর্ক’ শোডাউন: আচরণবিধি রক্ষায় গাড়ি থেকে নেতৃত্ব দিলেন প্রার্থী
মোঃ সেলিম হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: / ৮৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
মোঃ সেলিম হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রথম বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শন করল বিএনপি। শুক্রবার বিকাল জুড়ে গাজীপুরের গাছা ও টঙ্গী এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে এক বিশাল শোডাউনের আয়োজন করে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে দলের মনোনীত প্রার্থী এম মঞ্জরুল করিম রনি সশরীরে উপস্থিত থেকেও পুরোটা সময় গাড়ির ভেতর থেকেই নেতৃত্ব দেন।
​নির্বাচনকে সামনে রেখে এই শোডাউন নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উৎসাহ- উদ্দীপনার সঞ্চার করলেও, একই সঙ্গে কঠোর নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার একটি চাপও পরিলক্ষিত হয়। এ কারণেই কৌশলগত অবস্থান নিয়ে বিএনপির প্রার্থী এম মঞ্জরুল করিম রনি সরাসরি মিছিলে অংশ না নিয়ে গাড়ির অভ্যন্তরেই ছিলেন।
​দলীয় সূত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি-বিধান কঠোরভাবে কার্যকর থাকায়, প্রার্থীকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিতর্ক বা অভিযোগ উঠুক—এটি দল চাইছে না। তাই মাঠে নামার বদলে দূর থেকেই তিনি পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিকাল ৩টা থেকে টঙ্গী বাজার হোন্ডা রোড এলাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে জড়ো হতে থাকে। বিকাল ৪টার দিকে প্রধান শোডাউনটি শুরু হয়।
​গাছা থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল উদ্দিন। ​টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন ও সম্পাদক গাজী সালাহউদ্দিন। টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান নূর সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী।
​মিছিলটি টঙ্গী বাজার হোন্ডা রোড থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেশন রোড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পথজুড়ে নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
​তবে শোডাউন চলাকালে ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহন আটকে পড়ায় সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ​স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শোডাউন একদিকে বিএনপির মাঠের শক্তিকে দৃশ্যমান করেছে, অন্যদিকে যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হওয়ায় সমালোচনাও তৈরি হয়েছে।
প্রচার ও আচরণবিধির চাপের মুখে বিএনপির এই আয়োজনকে শক্তি প্রদর্শন এবং কৌশলগত রাজনীতির সমন্বয় হিসেবে দেখছেন অনেকে। যদিও দলীয় নেতাদের দাবি, এটি ছিল একটি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাবেশ, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র জনসমর্থন তুলে ধরা।
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com