বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম:
কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে মূলহোতা আরফাত গ্রেপ্তার, ভিকটিম ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতীউখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন আরএমও হিসেবে ডা. নুরুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণপটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটকনরসিংদীর ভেলানগরে মাদক সম্রাট সমীর মিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিপটিয়ায় মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকচট্টগ্রামে লোকনাথ মন্দির দখল নিয়ে ইসকন ও সাধারণ হিন্দুদের সংঘর্ষ, কক্ষ ভাঙচুরচট্টগ্রামে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে চসিকের মেগা অপারেশনউখিয়া থেকে অপহৃত তরুণকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করলো র‌্যাব-১৫গাজীপুরে পুলিশ বক্সে ঢুকে সাংবাদিকের ওপর হামলা আটক -১উখিয়ায় বাবার বাড়ি যাওয়া নিয়ে বিরোধ, গৃহবধূর মৃত্যুর পর স্বামী ও শাশুড়ি আটকউখিয়া সীমান্তে বিজিবি-আরএসও সম্মুখ যুদ্ধ, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারপেকুয়ায় ২টি বন্দুক ও গোলাবারুদসহ পেশাদার অস্ত্রধারী গ্রেফতারসিএনজির ইঞ্জিন বক্সে ২৩ হাজার ই/য়া/বা! টেকনাফে র‌্যাব-১৫ এর জালে চালক। ‎টেকনাফে ১০ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণচেষ্টা: র‌্যাব-১৫ কর্তৃক আসামী গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধারকক্সবাজারে র‌্যাবের সফল অভিযান: বিপুল পরিমাণ ই/য়া/বা, হে/রো/ই/ন ও আ/ই/স/সহ শীর্ষ মা/দ/ক কারবারি আজিজ গ্রে/ফ/তা/র ‎

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
শহীদদের রক্তের ঋণ শোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক তারেক রহমানের
২২

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলন- দুই সময়ের শহীদদের রক্ত ঝরানোর ধারাবাহিকতাকে এক সুতোয় গেঁথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র পথ হলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষ যেমন স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, গৃহবধূ, নারী-পুরুষ, মাদ্রাসার ছাত্রসহ দলমত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষ ৫ আগস্ট দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিল।

নিরাপদ দেশ গড়া
তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আজ তাদের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার করতে চায়। কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়। গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। মানুষ চায় তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার পাবে।’

‘আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এই দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, একইভাবে সমতল মানুষ আছে। এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলাদেশে একজন নারী, একজন পুরুষ, একজন শিশু- যেই হোক না কেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হলে যেন নিরাপদে ইনশাআল্লাহ ঘরে আবার ফিরে আসতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

প্রত্যাশা পূরণ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এই দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটির বেশি তরুণ প্রজন্মের সদস্য, পাঁচ কোটির মতো শিশু, ৪০ লাখের মতো প্রতিবন্ধী মানুষ ও কয়েক কোটি কৃষক শ্রমিক রয়েছেন। এই মানুষগুলোর প্রত্যাশা আছে রাষ্ট্রের কাছে। আকাঙ্ক্ষা আছে দেশের কাছে। আজ আমরা সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ হই, যদি সকলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই, তাহলে এই লাখ-কোটি মানুষের প্রত্যাশাগুলো পূরণ করতে পারি ইনশাআল্লাহ।’

রক্তের ঋণ শোধ
মুক্তিযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক আন্দোলনের শহীদদের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের শহীদরা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এরকম একটি বাংলাদেশ গঠনের জন্য।’

তিনি অভিযোগ করেন, ১৫ বছরের স্বৈরাচারের আমলে হাজারো মানুষ গুম-খুনের শিকার হয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, জীবন দিয়েছে।

২০২৪ সালের আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দেখেছি তরুণ প্রজন্মের সদস্যরা কীভাবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য।’

সম্প্রতি নিহত শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে এই বাংলাদেশের ২৪-এর আন্দোলনের সাহসী প্রজন্মের সাহসী সদস্য ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। ওসমান হাদি শহীদ হয়েছে। ওসমান হাদি চেয়েছিল এই দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক।’

সব শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ওসমান হাদিসসহ, ৭১-এ যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময় বিভিন্নভাবে খুন-গুমের শিকার হয়েছেন। এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ শোধ করতে আসুন আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করবো। যেখানে আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’

ধৈর্য ধারণের আহ্বান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তির ভক্ত-চরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে এখন লিপ্ত রয়েছে। আমাদের ধৈর্যশীল হতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন, দেশকে গড়ে তুলবেন। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। শক্ত গণতান্ত্রিক ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে পারি।’

এসময় মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার সাথে আজকে মঞ্চে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করে আল্লাহর রহমত চাই। যে জাতীয় নেতৃবৃন্দ মঞ্চে আছেন, বাইরে আছেন, আমরা সকলে মিলে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

দেশের শান্তি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোন উসকানির মুখে ধীর-শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা দেশের শান্তি চাই, আমরা দেশের শান্তি চাই।’

আই হ্যাভ এ প্ল্যান
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তার একটি বিখ্যাত ডায়ালগ আছে- আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সকলের সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই- আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।’

এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন জন্য বাস্তবায়ন করতে প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা লাগবে বলে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আমাদের সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো।’

ন্যায়ের আলোকে দেশ পরিচালনা
তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন আমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করি- হে রাব্বুল আলামিন, একমাত্র মালিক, একমাত্র পরওয়ারদিগার, একমাত্র রহমতদানকারী, একমাত্র সাহায্যকারী, আজ আপনি যদি আমাদের রহমত দেন, তাহলে আমরা এই দেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম করার মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। আজ যদি আল্লাহর রহমত এই দেশ ও দেশের মানুষের পক্ষে থাকে, আল্লাহর সাহায্য ও দয়া এই দেশ ও দেশের মানুষের ওপর থাকে, ইনশাআল্লাহ আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।’

‘আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশের দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে ন্যায়পরায়ণতা সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা
নিজের মা খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ‘এই একটি মানুষ, যে মানুষটি এই দেশের মাটি, এই দেশের মানুষকে নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবেসেছেন। তার সাথে কী হয়েছে আপনারা প্রত্যেকে সে সম্পর্কে অবগত আছেন। সন্তান হিসেবে আপনাদের কাছে চাইবো, আজ আল্লাহর দরবারে আপনারা দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ ওনাকে তৌফিক দেন, উনি যাতে সুস্থ হতে পারেন।’

নিজের অনুভূতির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘সন্তান হিসেবে আমার মন মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, অর্থাৎ আপনারা, সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারিনি। সেজন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদেরসহ টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে যারা সমগ্র বাংলাদেশে আমাকে দেখছেন, সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি আপনাদের সামনে।’

শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি গুরুত্ব
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, যে শ্রেণির মানুষ হই, যে রাজনৈতিক দলের সদস্য হই, অথবা একজন নির্দলীয় ব্যক্তি হই- আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে যেকোনো বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে মানুষ যাতে নিরাপদ থাকতে পারে। শিশু হোক, নারী হোক, পুরুষ হোক, যেকোনো বয়স, শ্রেণি, পেশা ও ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।’

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে মূলহোতা আরফাত গ্রেপ্তার, ভিকটিম ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী

‎মোঃ হারুন অর রশিদ উখিয়া, কক্সবাজার প্রতিনিধি: প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে মূলহোতা আরফাত গ্রেপ্তার, ভিকটিম ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী

কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় ১৬ বছরের এক স্কুলপড়ুয়া নাবালিকা শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনার মূলহোতা রিয়াজ উদ্দিন আরফাত (২৪)-কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫।

‎গতকাল শনিবার (০৬ জুন) রাত ১০:১০ ঘটিকায় কক্সবাজার শহরের কলাতলী রোডস্থ ‘আলগনি হোটেল’ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজ উদ্দিন আরফাত কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ঝিলংজা ঝিরঝিরি পাড়া (চন্দ্রিমা মাঠ) এলাকার আইয়ুব বাবুর্চির ছেলে।

‎মামলার এজাহার ও র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সে স্কুলে যাতায়াতের পথে ঝিলংজা এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন আরফাত তাকে বিভিন্ন সময় প্রলোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। সম্প্রতি ভিকটিমের শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান যে, ওই নাবালিকা শিক্ষার্থী বর্তমানে ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতী।

‎এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিকটিমের পরিবার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব-১৫।

‎র‌্যাব-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল কলাতলী রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন মামলার প্রধান পলাতক আসামি রিয়াজ উদ্দিন আরফাতকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

‎গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন আরএমও হিসেবে ডা. নুরুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণ

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন আরএমও হিসেবে ডা. নুরুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং নবাগত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো: নুরুল হাসানের অফিসিয়াল কক্ষ

কক্সবাজারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চিকিৎসা খাতের অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো: নুরুল হাসান। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং বিনম্র বার্তায় তিনি তাঁর কর্মক্ষেত্রের সকল সিনিয়র সহকর্মী, পেশাগত শুভাকাঙ্ক্ষী এবং উখিয়ার স্থানীয় সাধারণ জনগণের কাছে অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁর এই নতুন পথচলাকে উখিয়ার স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

এক সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ায় নবাগত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো: নুরুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, হামরোগের প্রাদুর্ভাব বা চলমান নানাবিধ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের এই অত্যন্ত কঠিন ও নাজুক সময়ে এই গুরুদায়িত্বটি তাঁর ওপর অর্পিত হয়েছে। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এবং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উল্লেখ করেন যে, ব্যক্তিগতভাবে নিজ থেকে এই পদটি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব তিনি না চাইলেও কেবল পেশাগত আইনি ও মানবিক প্রয়োজনে এবং কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখেই তাঁকে এই গুরুভার নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে।

উখিয়াবাসীর চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত এক অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. মো: নুরুল হাসান আরও বলেন, “আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবানিতে, আমার পেশাগত জীবনের সম্মানিত সিনিয়রদের গভীর দোয়ায় এবং সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় এই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং পথচলা যেন সহজ ও সুন্দর হয়—এজন্য আমি সবার কাছে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে দোয়ার দরখাস্ত করছি। উখিয়াবাসীর দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করতে আমি আমার মেধা ও শ্রমের সর্বোচ্চ চেষ্টা সর্বদা বিলিয়ে দেব।”

নবাগত এই আরএমও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ, দূরদর্শী এবং উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন একজন চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিত। তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসালয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) থেকে অত্যন্ত সফলতার সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি সরকারি চাকুরির অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর ব্যাপক উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রি রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো এফসিপিএস (পার্ট-১, অর্থোপেডিক্স), সিসিডি বারডেম (ডায়াবেটিস), সিএমইউ (আল্ট্রাসনোগ্রাফি) এবং এমসিজিপি (শিশু ও চর্ম রোগ)। বর্তমানে তিনি আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) হিসেবে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরাসরি যুক্ত হলেন।

উখিয়া হাসপাতালে সরকারি নিয়মতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির সুবিধার্থে তিনি তাঁর নিয়মিত প্রাইভেট প্র্যাকটিসও সমান তালে চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। উখিয়ার পালংখালী এলাকায় অবস্থিত সুপরিচিত ‘নিউরন মেডিকেল সেন্টার’-এ প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে শুরু করে রাত ৮টা পর্যন্ত তিনি নিয়মিত চেম্বার করবেন এবং সাধারণ রোগীদের আন্তরিকভাবে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ প্রদান করবেন। এদিকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামগ্রিক চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডা. মো: নুরুল হাসানের এই নতুন ও প্রত্যয়ী পথচলাকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সুধী সমাজ আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। নিবেদিত চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে তিনি দ্রুত উখিয়াবাসীর আস্থা অর্জন করবেন বলে সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ডা. মো: নুরুল হাসানের মতো একজন যোগ্য ও উচ্চ শিক্ষিত চিকিৎসককে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও হিসেবে পদায়ন করা নিঃসন্দেহে একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। হামরোগসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করে তিনি উখিয়ার সাধারণ ও অবহেলিত মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন বলে সর্বস্তরের জনগণ গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

পটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটক

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
পটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটক

মাদক মামলার ১ বছর ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকা এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫। গতকাল শনিবার (৬ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন কৌশলগত ও জনাকীর্ণ এলাকা হোয়াইক্যং বাজার এলাকায় এক ঝটিকা ও সফল অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত আসামির বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত মাদক আইনে সুনির্দিষ্ট সাজার পরোয়ানা জারি ছিল এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কক্সবাজারের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও র‌্যাব সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ওই কুখ্যাত সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল (২৫)। তিনি মূলত টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দা সামশুল আলমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজের আসল পরিচয় গোপন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাযাবরের মতো যাযাবর জীবনযাপন করে আসছিলেন যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে সহজে খুঁজে না পায়।

র‌্যাব-১৫ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বস্ত গোপন সংবাদ ও সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ ঘটিকার সময় সিপিসি-২, র‌্যাব-১৫ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস ও অত্যন্ত দক্ষ আভিযানিক দল হোয়াইক্যং বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। আভিযানিক দলের উপস্থিতি এবং র‌্যাবের ভারী বুটের শব্দ টের পেয়ে সুচতুর আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম প্রকাশ রুবেল লোকালয়ের ভেতর দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে র‌্যাবের চৌকস দল চারপাশ থেকে কর্ডন করে ধাওয়া দিয়ে তাকে হোয়াইক্যং বাজার এলাকা থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

র‌্যাব-১৫-এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, বিগত ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি রুবেলের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের মাদক মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে বিজ্ঞ আদালত তাকে সুনির্দিষ্টভাবে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ০১ বছর ০১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন। একই সাথে বিজ্ঞ আদালত থেকে আসামির বিরুদ্ধে নিয়মিত সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়। আদালত থেকে এই সাজা পরোয়ানা জারির পর থেকেই সুচতুর আসামি রুবেল আইনি প্রক্রিয়া ও সাজার মেয়াদ এড়াতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুকৌশলে ও ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপন করে আসছিলেন।

র‌্যাব আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এবং আদালতের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাকে রাতেই টেকনাফ মডেল থানায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সফল অভিযানের বিষয়ে র‌্যাব-১৫ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে এবং একটি সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত সুশীল সমাজ গঠনে র‌্যাবের এই দূরদর্শী, কঠোর ও আপসহীন আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও সমান তালে অব্যাহত থাকবে।

পটিয়া থানার ২০১৯ সালের মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি রুবেলকে দীর্ঘ বছর পর টেকনাফ থেকে গ্রেপ্তার করা র‌্যাব-১৫-এর পেশাদারিত্ব ও নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের ফলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।