
দেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার ও চোরাচালান প্রতিরোধে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়ন চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনায় কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয় যে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলতি বছরে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ২৯ জন আসামিসহ প্রায় ২৮ কোটি ৩০ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি মালামাল ও বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আটক করা হয়েছে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মোট সীমান্তের মধ্য থেকে দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের দায়িত্বে থাকা মীরসরাইয়ের আমতলী থেকে জুরাছড়ির কচুতলী পর্যন্ত বিস্তৃত ৫৪০ কিলোমিটার এলাকায় বিজিবির ১৩টি ব্যাটালিয়ন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মাদক পাচার প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে চলতি বছরে এই রিজিয়নের ইউনিটসমূহ ৮১৫ বোতল বিদেশি মদ, ৪০৮ লিটার দেশীয় মদ, ৩৭৩ বোতল ফেন্সিডিল, ৬২ বোতল বিয়ার, ৫২০টি মদ তৈরির ট্যাবলেট, ৪৪৪.৫১৩ কেজি গাঁজা এবং ১,২১৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। মাদকবিরোধী এই কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সভা ও সেমিনারের আয়োজন করছে বাহিনীটি। এছাড়া গবাদি পশু পাচার রোধে জোরালো ভূমিকা রেখে বিজিবি চলতি বছরে ৬৬৭টি গরু, ১৭টি মহিষ ও ৩৭টি ছাগল আটক করেছে। দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসরত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বিজিবি সর্বদা আস্থার প্রতীক হিসেবে জনগণের পাশে রয়েছে। বাহিনীর প্রতিটি সদস্য “বিজিবি—সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” এই মূলনীতি বাস্তবায়নে সুদৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে দেশ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।
