
পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে সারা দেশে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে দিগন্ত। তবে এবারের শীতের বিশেষ এক রূপ দেখা যাচ্ছে যা আবহাওয়াবিদদের ভাষায় ‘ড্রিলিং ফগ’ (Drizzling Fog) বা সহজ বাংলায় ‘কুয়াশা-বৃষ্টি’। আকাশ মেঘলা না থাকলেও বৃষ্টির মতো ঝিরিঝিরি পানি পড়ছে, যা সাধারণ কুয়াশার চেয়েও অনেক বেশি ঠান্ডা ও কষ্টদায়ক। ঘন কুয়াশার ছোট ছোট জলকণা যখন বাতাসে ভাসতে না পেরে ভারী হয়ে ঝরতে থাকে, তখনই এই কুয়াশা-বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। এর ফলে রাস্তাঘাট ভিজে যাচ্ছে এবং যানবাহনের গ্লাসে পানির বিন্দু জমে দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দিচ্ছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রার ব্যাপক পতন ঘটেছে। উত্তরাঞ্চলে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। দেশের ৬৪ জেলার আজকের সম্ভাব্য গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার (ডিগ্রি সেলসিয়াস) তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
রংপুর বিভাগ: পঞ্চগড় (তেঁতুলিয়া) ৮.২, ঠাকুরগাঁও ৮.৫, দিনাজপুর ৯.০, নীলফামারী ৯.২, কুড়িগ্রাম ৮.৮, লালমনিরহাট ৯.৫, রংপুর ১০.০, গাইবান্ধা ১০.৫।
রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী ৯.৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৯.৮, নাটোর ১০.২, নওগাঁ ৯.৬, পাবনা ১০.৮, সিরাজগঞ্জ ১১.০, বগুড়া ১০.৫, জয়পুরহাট ১০.০।
ঢাকা বিভাগ: ঢাকা ১৩.৫, গাজীপুর ১২.৮, নারায়ণগঞ্জ ১৩.০, টাঙ্গাইল ১১.৫, মুন্সিগঞ্জ ১৩.২, মানিকগঞ্জ ১২.০, নরসিংদী ১২.৫, রাজবাড়ী ১১.৮, ফরিদপুর ১২.২, মাদারীপুর ১২.৪, শরীয়তপুর ১২.৬, গোপালগঞ্জ ১১.৫, কিশোরগঞ্জ ১১.২।
খুলনা বিভাগ: খুলনা ১২.৮, যশোর ১০.৪, কুষ্টিয়া ১০.৬, মেহেরপুর ১০.৮, চুয়াডাঙ্গা ১০.০, মাগুরা ১১.২, ঝিনাইদহ ১১.০, নড়াইল ১১.৫, বাগেরহাট ১২.৫, সাতক্ষীরা ১২.২।
চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম ১৫.৫, কক্সবাজার ১৬.২, রাঙামাটি ১২.৫, খাগড়াছড়ি ১০.৮, বান্দরবান ১০.৫, কুমিল্লা ১২.০, নোয়াখালী ১৩.৫, লক্ষ্মীপুর ১৩.৮, ফেনী ১২.৮, চাঁদপুর ১৩.২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১২.৫।
সিলেট বিভাগ: সিলেট ১২.৫, সুনামগঞ্জ ১১.৮, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল) ৯.৫, হবিগঞ্জ ১২.০।
বরিশাল বিভাগ: বরিশাল ১১.৫, ভোলা ১২.২, পটুয়াখালী ১২.৫, বরগুনা ১২.৮, পিরোজপুর ১২.০, ঝালকাঠি ১১.৮।
ময়মনসিংহ বিভাগ: ময়মনসিংহ ১১.৫, নেত্রকোনা ১১.০, শেরপুর ১০.৮, জামালপুর ১০.৫।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই ‘ড্রিলিং ফগ’ বা কুয়াশা-বৃষ্টির কারণে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক এবং খোলা যানবাহনের যাত্রীরা এই ঝিরিঝিরি কুয়াশায় ভিজে ঠান্ডা ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। কুয়াশায় নিরাপদ থাকতে রাস্তায় চলাচলের সময় গাড়ির ফগ লাইট ব্যবহার এবং গরম কাপড় পরিধানের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
