প্রচারিত হয়েছে :
মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ /
৩৮
জন দেখেছে /
Share
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের কিছমত কচুরী গ্রামে অবৈধভাবে মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের (স্থানীয়ভাবে ‘টুয়েন্টি’ গাড়ি নামে পরিচিত) কারণে কাঁচা রাস্তা ভেঙে ব্যাপক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক যুবক ( সোহেল) কে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছমত কচুরী গ্রামের বাসিন্দা মাটি ব্যবসায়ী আল আমিন (৪০), সজিব মিয়া (৩০), ফারুক মিয়া (৪৫), জামিল (৩২), তালবী (২৮), এখলাছ মিয়া (৩০), মুরাদ মিয়া (৩২), এবং মোড়াগালা গ্রামের ফারুক মিয়া (৩৫) সহ আরও কয়েকজন কিছমত কচুরী গ্রাম থেকে ট্রাক্টর ভর্তি করে মাটি পার্শ্ববর্তী চকমতি কাওয়ারগাতী বিপ্লব চেয়ারম্যানের ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছিলেন।
অভিযোগকারী কিছমত কচুরী গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মিয়া (৪০), পিতা-মো. সেলিম, জানান— লাগাতার এই মাটি পরিবহনের ফলে কিছমত কচুরী গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায়, যা সাধারণ জনগণের চলাচলের জন্য প্রায় অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই বিষয়ে তিনি একাধিকবার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অবহিত করলেও তারা কর্ণপাত না করে মাটি বহন অব্যাহত রাখেন।
অভিযোগকারী সোহেল মিয়া জানান, গত ২২/১২/২০২৫ তারিখ বেলা আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকার সময় বিবাদীরা পুনরায় ট্রাক্টর ভর্তি করে মাটি নিতে থাকলে তিনি এতে বাধা দেন। এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে কিছমত কচুরী এলাকায় আজিজুল হক-এর রাইস মিলের সামনে সোহেল মিয়ার উপর আক্রমণ করে এবং তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে।
মারধরের ফলে সোহেল মিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্ত আল আমিন সোহেল মিয়ার ব্যবহৃত TVS-4B 160 সিসি মোটরসাইকেলটি (রেজিঃ নং-ঢাকা মেট্রো-ল-৪১-৫০৪৭) ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায়। মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য ২,২০,০০০ টাকা বলে জানা গেছে।
সোহেল মিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে নান্দাইল থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং বিবাদীদের কবল থেকে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সামান্য সুস্থ হওয়ার পর সোহেল মিয়া বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করেন। পরে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, অবৈধ মাটি পরিবহনের কারণে শুধু কিছমত কচুরী গ্রাম নয়, আশেপাশের এলাকাতেও কাঁচা ও আধা-পাকা রাস্তাগুলির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করলে প্রায়শই প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এলাকাবাসী আরো জানান যারা এসব অবৈধ মাটি ব্যবসার সাথে জড়িত তাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের দোষর।এদের প্রভাব এলাকায় এতই বেশি তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলে প্রতিবাদ করতেও সাহস পায় না।
সিংরইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি প্রার্থী টুটুল বলেন ,সোহেল একজন প্রতিবাদী মানুষ , এলাকায় মাদক ,জোয়া ,রাস্তা নষ্ট করার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে , সে একজন প্রতিবাদী মানুষ , যারা আওয়ামী দোষরদের সাথে নিয়ে এগুলো করছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি ।
সিংরইল ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক আবুল হাসেম বলেন সাবেক চেয়ারম্যান এর ভাইয়ের সাথে আওয়ামী লীগের লোকজন মাটি কেটে রাস্তা নষ্ট করার প্রতিবাদ করায় সোহেলের উপরে হামলা করে, সোহেল আমাদের দলীয় লোক। সোহেল ভালো ছেলে তার বিরুদ্ধে বাহিরের লোকজন দিয়ে মিথ্যা মানববন্ধন করানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিন জানান, ৯৯৯ এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। রাস্তা নষ্ট এবং মারধরের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।