“সমাজসেবায় গড়ি সমৃদ্ধ দেশ” — এই সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানে নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় সমাজসেবা দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়াম হল রুমে সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এই বিশেষ দিবসটি পালন করা হয়। আয়োজকরা জানান, এই দিবসটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং এটি মানবিক চেতনার এক শক্তিশালী স্মারক, যা প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে নতুন করে ভাবতে অনুপ্রাণিত করে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে, যখন বৈশ্বিক সংকট, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোকেও প্রভাবিত করছে, তখন সমাজসেবার ভূমিকা আরও গভীর ও বিস্তৃত হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমাজসেবা কার্যক্রম সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এক অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করছে। প্রবীণ ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার তৃণমূলের মানুষের ভাগ্য বদলে কাজ করে যাচ্ছে। বক্তারা এসব কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভা শেষে সমাজসেবায় বিশেষ অবদান রাখা উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে সম্মাননা সনদপত্র বিতরণ করা হয় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক। এছাড়াও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা পরিশেষে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আধুনিক ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর আগামীতে আরও বেশি মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।