আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বড় ধরণের রদবদল ঘটেছে। আইনি জটিলতা ও তথ্যের অসঙ্গতি থাকায় ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনের মোট ৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ঝালকাঠি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন ২৫ জন প্রার্থীর দাখিলকৃত নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে সবচেয়ে বেশি ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। এদের মধ্যে লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান (মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না করা), স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত (১% ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল), মঈন আলম ফিরোজী (মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর প্রদান), গণঅধিকার পরিষদের শাহাদাত হোসেন (শিক্ষাগত সনদ জমা না দেওয়া) এবং কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমানের (ঋণ খেলাপ ও ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল) প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) আসনে জাতীয় পার্টির এম এ কুদ্দুস খান (ঋণ খেলাপি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুদ্দীন সরদার (ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল) এবং সৈয়দ রাজ্জাক আলীর (আয়কর বকেয়া) মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইকালে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মমিন উদ্দিন জানান, যাচাই-বাছাইয়ে ঝালকাঠি-১ আসনে ৫ জন এবং ঝালকাঠি-২ আসনে ৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। এই বাতিলের খবরে ঝালকাঠির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।