
পূর্বাচল উপশহরে শুরু হওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসরে অংশ নিতে এসে গত বছরের মতো এবারও তীব্র আবাসন সংকটে পড়েছেন দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও বিক্রয় প্রতিনিধিরা। মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় বাড়িভাড়া আকাশচুম্বী হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। সরেজমিনে দেখা গেছে, পূর্বাচলের প্লটগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত আবাসিক ভবন গড়ে না ওঠায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। মেলার কার্যক্রম প্রতিদিন রাত ৯টা এবং ছুটির দিনে ১০টা পর্যন্ত চলায় পণ্য গুছিয়ে ফিরতে ফিরতে মাঝরাত হয়ে যায়। ফলে কুড়িল বা ঢাকার মূল শহরে বসবাসকারীদের যাতায়াত ও বিশ্রামের সময় থাকে না বললেই চলে। বাধ্য হয়েই ৫ গুণ বেশি ভাড়ায় মেলার আশপাশের এলাকায় থাকতে হচ্ছে হাজার হাজার প্রতিনিধিকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ, শিমুলিয়া, জিন্দা ও কাঞ্চনসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সাধারণত একটি ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ৮-১০ হাজার টাকা হলেও মেলা উপলক্ষে তা ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। অতিরিক্ত ভাড়ার পাশাপাশি রাত ১০টার পর বিআরটিসি বাসের সংকটকে পুঁজি করে সিএনজি ও লোকাল পরিবহনগুলো কুড়িল পর্যন্ত ৪০ টাকার ভাড়া ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে ইপিবির সচিব তরফদার সোহেল রহমান জানান, রাস্তা উন্নত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ঢাকায় থাকতে পারেন। তবে স্টল মালিকরা বলছেন, মিরপুর বা দূরবর্তী এলাকা থেকে যাতায়াত করে প্রতিদিন রাত ২টায় বাড়ি পৌঁছানো এবং ভোরে আবার মেলায় আসা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ী ও ৬-৭ হাজার বিক্রয় প্রতিনিধির স্বার্থে মেলা প্রাঙ্গণে সরকারিভাবে স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।