
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনী, আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘর্ষের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশ সীমান্তে। ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে এক বাংলাদেশি কিশোরী নিহত হয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল সীমান্তে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা উখিয়া-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দীর্ঘক্ষণ ধরে গোলাগুলি চলার সময় একটি গুলি সীমান্ত পেরিয়ে এসে লম্বাবিল এলাকায় ওই কিশোরীর গায়ে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রীজ এলাকায় জড়ো হয়ে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এতে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং কয়েক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা জানান, ওপারের সংঘর্ষের বিকট শব্দে তাদের দিন ও রাতে ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রাণভয়ে অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। এর মধ্যেই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বহু নিরস্ত্র সদস্য বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির টহল জোরদার করা হলেও সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ নাগরিকদের জানমালের সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।