বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া বা ফেসবুক যেন এক ‘সোনার হরিণ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, একবার পেজ মনিটাইজেশন পেয়ে গেলেই রাতারাতি কোটিপতি হওয়া সম্ভব। কিন্তু এই অলীক স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে মধ্যবিত্ত সমাজ ও পারিবারিক মূল্যবোধ আজ চরম হুমকির মুখে।
ভিউ পাওয়ার নেশায় মানুষ এখন বেডরুম থেকে শুরু করে টয়লেট পর্যন্ত ক্যামেরাবন্দি করতে দ্বিধা করছে না। রিচ বাড়ানোর এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতায় মেতেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একটি বড় অংশ।
পারিবারিক একান্ত গোপনীয় বিষয়, স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্ত, এমনকি ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টকেও এখন ডিজিটাল পণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে। আগে যা ছিল ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ, আজ তা ‘ভিউ’ এবং ‘শেয়ার’ পাওয়ার হাতিয়ার।
এই উন্মাদনায় পারিবারিক শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে অশ্লীলতা ও কুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতি।
তবে ভিউর এই নেশার পেছনে আয়ের কঠোর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেকের ধারণা কয়েক হাজার ভিউ হলেই বোধহয় পকেট ভর্তি ডলার আসে, কিন্তু প্রকৃত চিত্র রীতিমতো হতাশাজনক।

সম্প্রতি এক ক্রিয়েটরের আয়ের চিত্রে দেখা গেছে, ৬৩ হাজারেরও বেশি ভিউ হওয়ার পর অর্জিত আয়ের পরিমাণ মাত্র ১৭ সেন্ট, যা বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ২০-২৫ টাকার মতো। অর্থাৎ, যে পরিমাণ সময়, শ্রম এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিসর্জন দিয়ে একটি ভিডিও বানানো হচ্ছে, তার বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্থ যৎসামান্য।
ফেসবুকে আয়ের বিষয়টি ভিডিওর ধরণ, দর্শকের অবস্থান (Location) এবং বিজ্ঞাপনের সিপিবির (CPM) ওপর নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার নেশায় মানুষ নিজের সামাজিক ও মানসিক ক্ষতি করছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাহীন এই কনটেন্ট তৈরি কেবল সাময়িক কিছু ভিউ এনে দিলেও তা সম্মানজনক আয়ের পথ নয়। সৃজনশীলতা ও শালীনতা বিসর্জন দিয়ে ভিউর পেছনে অন্ধের মতো ছুটলে দিনশেষে আত্মসম্মান খোয়ানো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।