বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ বিষয়ক ঐতিহাসিক গণভোট পর্যবেক্ষণে ১৬টি দেশ থেকে ৫৭ জন দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একই সঙ্গে এই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দ্বিপক্ষীয় প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কয়েকশ পর্যবেক্ষক নির্বাচনী কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রেস উইংয়ের তথ্যমতে, দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪ জন প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া। দলটির নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুন। তুরস্ক থেকে আসছেন ১২ জন সংসদ সদস্য, যাদের নেতৃত্ব দেবেন সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন এবং পাকিস্তান থেকে ৩ জন প্রতিনিধি আসছেন। ভুটান, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, জর্ডান, জর্জিয়া, রাশিয়া, কিরগিজস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২ জন করে এবং শ্রীলঙ্কা, ইরান ও উজবেকিস্তান থেকে ১ জন করে পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ জালাল সিকান্দার সুলতান এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা।
নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ জানান, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যের দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আদ্দো। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। এবারের জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই সঙ্গে ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ নিয়ে দেশব্যাপী জনমত যাচাইয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।