কক্সবাজারের উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় হোয়াইক্যং সীমান্তের ক্যারেঙ্গাঘোনা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটককৃত যুবকের নাম মোঃ আলমগীর (১৮)। তিনি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ক্যারেঙ্গাঘোনা গ্রামের মোঃ আলী আকবরের ছেলে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিট। হোয়াইক্যং বিওপির আওতাধীন সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৮ এর উত্তর-পূর্ব দিকের ক্যারেঙ্গাঘোনা এলাকা।
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশকালে এক ব্যক্তির চলাচল সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি সদস্যরা তাকে চ্যালেঞ্জ করেন। বিজিবিকে দেখে ওই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করা হয়।
তল্লাশি চালিয়ে আলমগীরের কাছ থেকে ৪টি কার্টনে মোট ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর স্বীকার করেছেন যে, তিনি মিয়ানমার সীমান্ত থেকে এই ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে দেশের অভ্যন্তরে চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম, অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) বলেনঃ”সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর টহল জোরদার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ আটক আসামিকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিজিবির এই ধরনের অভিযান এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন পশ্চিম ঝাঝড় এলাকার “দারুত তাকওয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা”য় দুই কোমলমতি শিক্ষার্থীকে উলঙ্গ করে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর এবং আগুনে উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরের সংবেদনশীল স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়ার পৈশাচিক অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা মূল অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
গ্রেফতারকৃত শিক্ষকের নাম মাওলানা মো. সোয়াইব (২৪)। তিনি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে আরও দুই সহকারী শিক্ষককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত অপরাপর শিক্ষকদ্বয় হলেন— মো. হাবিবুর রহমান (২৬) ও মো. শাহিন (১৯)।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর পৃথক দুটি দফায় চরম বর্বরতা চালানো হয়। প্রথম ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বায়েজীদের বাবা মো. নাজমুল মিয়ার অভিযোগ, ওই দিন বিকেলে খেলায় অন্য এক ছাত্রের পায়জামা খুলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবাদ বিচার করতে গিয়ে শিক্ষক সোয়াইব চরম হিংস্র হয়ে ওঠেন। বায়েজীদকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে নীলাফোলা জখম করা হয় এবং পরবর্তীতে আগুনে উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। শারীরিক ও মানসিক ক্ষত ঢাকতে ভীতিপ্রদর্শন করায় পরিবারকে প্রথমে ‘ফোড়া’ হয়েছে বলে মিথ্যা জানায় ভয়ে তটস্থ বায়েজীদ। পরে ১০ সেপ্টেম্বর রাতে শরীরে মলম লাগাতে গেলে তার পোড়া ও পিটুনির ক্ষত দেখে বিষয়টি পরিবারের সামনে প্রকাশ পায়।
একই দিন বিকেলে ১৩ বছর বয়সী অপর শিক্ষার্থী মো. বোরহান আলীর ওপরও নেমে আসে একই ধরনের মধ্যযুগীয় বর্বরতা। বোরহানের বাবা মো. লাল মিয়ার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান আসামি সোয়াইবের ভাইয়ের একটি অন্যায় কাজ শিক্ষককে না জানানোর অপরাধে বোরহানকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর তার মুখে কস্টেপ পেঁচিয়ে এবং হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে শরীর রক্তাক্ত করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মিলে উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে শিশু বোরহানের তলপেট, ডান ও বাম উরু এবং নিতম্বে নির্মমভাবে ছ্যাঁকা দিয়ে মারাত্মক পোড়া জখম করে। পরবর্তীতে গুরুতর আহত বোরহান আলীকে চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবার মাদ্রাসায় খোঁজ নিতে গেলে শিক্ষকরা তাকে অন্য শাখায় পাঠানোর মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা সোয়াইব ইতিপূর্বেও একাধিকবার শিক্ষার্থীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছেন। প্রায় ৫-৬ মাস আগে সামান্য কারণে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সে সময় স্থানীয় সামাজিক মধ্যস্থতায় জরিমানা ও আপস-মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়া হয়। পূর্বের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক সোয়াইব আরও বেপরোয়া ও হিংস্র হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
পরপর দুই শিশুর ওপর অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা জানাজানি হলে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র সামাজিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা সোয়াইবকে মুন্সি মার্কেট এলাকা থেকে আটক করে রাখে এবং পরবর্তীতে গাছা থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত শিশুদের হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রধান আসামি মাওলানা সোয়াইবকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্য অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে বিরামহীন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের ওপর এমন নৃশংস নির্যাতন মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় প্রকাশ করে। অতীতে বিচারে শিথিলতার সুযোগে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সকল শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাজর এলাকায় এক অসহায় অটোরিকশা চালককে বসতবাড়ি থেকে প্রকাশ্যে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে গাছে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন, নারীর শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জমির দলিল ও ব্যাংকের চেক জিম্মি করার এক রোমহর্ষক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। গরু চুরির মিথ্যা অপবাদ চাপিয়ে মো. মানিক (৩০) নামের ওই নিরীহ চালকের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্র। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মামলা দায়ের ও পুলিশি অভিযানে ছিনতাই হওয়া নথিপত্র উদ্ধার হলেও গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষে ফুসে উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ।
ঘটনার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহর গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এই চুরির ঘটনায় কোনো প্রকার তথ্য-প্রমাণ বা তদন্ত ছাড়াই সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে প্রতিবেশী অটোরিকশা চালক মানিকের ওপর সমস্ত দায় চাপানো হয়। ওই দিনই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয় সন্ত্রাসী ইমরান, জাহাঙ্গীর মামুন, হাবিবুল্লাহ, রাহাদ ও ফরহাদ সংঘবদ্ধ হয়ে মানিকের বসতবাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে হামলা চালায় এবং তাকে টানা-হেঁচড়া করে বাড়ি থেকে বের করে আনে। পরবর্তীতে প্রকাশ্য দিবালোকে মানিককে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীর মারাত্মকভাবে থেঁতলে দেওয়া হয়। ৩ নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর মামুন লোহার রড দিয়ে মানিককে নির্বিচারে পেটাতে পেটাতে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রত্যক্ষ চেষ্টা চালায়। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে মানিকের স্ত্রী মৌসুমি আক্তার এগিয়ে এলে ১ নম্বর আসামি ইমরান তার পরনের জামাকাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং তাকেও নির্মমভাবে মারধর করে।
অভিযুক্ত আসামিরা চুরির কথিত ক্ষতিপূরণ বাবদ নগদ ৬ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে জিম্মি ও চিকিৎসাধীন মানিককে বাঁচাতে তার স্ত্রী তাদের ধীরাশ্রম মৌজাস্থিত নিজ জমির মূল দলিল এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ২টি স্বাক্ষর করা ব্লাঙ্ক চেক সন্ত্রাসীদের হাতে তুলে দেন। খবর পেয়ে ওই দিন দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে গাছা থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে আসামি হাবিবুল্লাহ এবং তার দুই ছেলে রাহাদ ও ফরহাদকে। তবে মূল হোতা ইমরান ও অতীতে বাস ডাকাতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর মামুন পুলিশ ও সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রক্তাক্ত ও মূমুর্ষু মানিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে গাছা থানার কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, ভুক্তভোগী মানিকের পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দায়েরের পর থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সফল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের অবৈধ দখল থেকে মানিকের ছিনতাই হওয়া জমির দলিল ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দুটি চেক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে এবং বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে ঘটনার দিন গভীর রাতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে গাছা থানায় আসেন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। ৩২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হামিদ মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে গভীর রাতে ওসির কক্ষে হাজির হয়ে মামলা না নেওয়া ও আটক আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার চরম চাপ সৃষ্টি করেন। সাংবাদিকরা এর প্রতিবাদ জানালে অনৈতিক অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার অপচেষ্টা চালানো হয়। তবে সাংবাদিকদের শক্ত অবস্থানের মুখে অপচেষ্টা ব্যর্থ হলে রাত ২টার দিকে তারা থানা ত্যাগ করেন। পরদিন পুলিশ আটক আসামিদের আদালতে প্রেরণ করলে আদালত থেকে আসামিরা দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসে, যা ভুক্তভোগী পরিবারকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে।
অসহায় চালকের ওপর এমন মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের অনৈতিক মধ্যস্থতা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চিহ্নিত আসামিদের পুনরায় আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।
কক্সবাজার সদর থানা এলাকার চাঞ্চল্যকর মো: ইকরাম (৪০) হত্যাচেষ্টা ও প্রকাশ্য গুলিবর্ষণ মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো: মুবিনকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক ঝটিকা অভিযানে লিংক রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় র্যাবের চৌকস টিম।
র্যাব-১৫ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে অর্থাৎ রাত আনুমানিক ১টা ৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ব্যস্ততম লিংক রোড রেল ক্রসিং এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো: মুবিনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মো: মুবিন কক্সবাজার সদর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত দক্ষিণ পলাইন্যা কাটা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে।
ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করে র্যাব জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে কক্সবাজার সদর থানাধীন আলীর জাহাল সিটি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় মো: ইকরামকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড তাজা গুলি বর্ষণ করে একদল অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত। গুলিবর্ষণের ঘটনার পরপরই অপরাধীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত ও মারাত্মক আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ইকরামকে উদ্ধার করেন। এই নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়। উক্ত মামলার এজাহারে মো: মুবিনকে ৩ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তৎপরতা শুরু করে র্যাব-১৫। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মুবিনের অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে রোববার মধ্যরাতে লিংক রোড রেল ক্রসিং এলাকায় ঘিরে ফেলে অভিযান চালায় র্যাবের টিম। সুকৌশলে তাকে ঘেরাও করে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুবিধার্থে তাকে ইতোমধ্যেই কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও সংলগ্ন এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দমনে র্যাবের এ জাতীয় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারে চাঞ্চল্যকর ইকরাম হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামিদের একজন গ্রেপ্তার হওয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাবের দক্ষতার প্রমাণ দেয়। অপরাধ সংঘটনকারী ও নেপথ্যের অন্য আসামিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের সহিংস অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।