বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম:
উখিয়া সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১উখিয়ায় পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সক্রিয় সন্ত্রাসী জহির গ্রেফতারশাহপরীর দ্বীপে কোটি টাকার আইসের চালান জব্দ করল র‍্যাব-১৫বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে নৌকা ভ্রমণ-২০২৬ অনুষ্ঠিতহিলিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনহিলিতে নানা আয়োজনে সীমান্ত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিতহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিতউখিয়ায় ‘দক্ষিণ থাইংখালী পুঁটিবনিয়া প্রবাসী কল্যাণ সমবায় সমিতি’ গঠিত: মিলাদ ও দোয়ার মাধ্যমে যাত্রা শুরুউখিয়ায় বিজিবির চার সফল অভিযান: ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ২, জিপ ও নৌকা জব্দউখিয়ায় জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারকালে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল সার ও তেলসহ আটক ১রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্যের দৃশ্যমান স্তূপ: হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।‎নাফ নদীতে মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো বদিউল আলম দীর্ঘ ২৩ দিন চিকিৎসা শেষে বাসায় আসলেন।টেকনাফে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।কক্সবাজারের চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর হ/ত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার।

এনজিওর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও হোস্ট কমিউনিটির স্বার্থ নিশ্চিত করা জরুরি

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
এনজিওর কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও হোস্ট কমিউনিটির স্বার্থ নিশ্চিত করা জরুরি
২২৮

২০১৭ সালের পর থেকে ১৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আগমনের ফলে কক্সবাজারের স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটি (আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়) যে ভয়াবহ মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, তা এক দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের উপাখ্যান।
‎একটি দেশ কখনই অনন্তকাল ধরে অন্য দেশের বোঝা বহন করতে পারে না । এনজিওদের জন্য রোহিঙ্গা সংকট একটি প্রজেক্ট বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্র হতে পারে, তবে বাংলাদেশের জন্য এটি একটি অস্তিত্বের সংকট । দেশের ক্ষতি করে কোনো বিশেষ মহলের লাভবান হওয়ার এই ধারা বন্ধ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সময়ের প্রধান দাবি।

‎রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে দেশ-বিদেশের বহু দাতাগোষ্ঠী ও এনজিও ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের নামে কোটি কোটি টাকার তহবিল পরিচালনা করছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য ও পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, এই বিশাল বাজেটের সিংহভাগই ব্যয় হয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের বিলাসী জীবনযাপন, আকাশচুম্বী বেতন এবং প্রশাসনিক খরচের পেছনে। সাধারণ রোহিঙ্গাদের পেছনে সরাসরি সহায়তার চেয়ে ‘ওভারহেড’ বা অপ্রয়োজনীয় খাতে খরচের পরিমাণ অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবেই, সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, এই বিশাল তহবিল প্রবাহ তত অব্যাহত থাকবে । এতে করে একশ্রেণির এনজিও কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এবং সংকট জিইয়ে রাখাতে তারা এক ধরণের পরোক্ষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
‎কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দারা রোহিঙ্গাদের আগমনের পর থেকেই মারাত্মক দুরবস্থার মধ্যে আছেন । বিপুল সংখ্যক মানুষের বসতি গড়তে হাজার হাজার একর পাহাড় ও বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, মাদক চোরাচালান, মানবপাচার এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও উগ্রবাদের মতো সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে ।
‎দেশী বিদেশী দাতা সংস্থা তথা এনজিওদের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কর্তৃক উখিয়া- টেকনাফের স্থানীয় অধিবাসীদের (হোস্ট কমিউনিটি) জন্য ত্রাণ সহায়তার ২৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার জন্য বিধান থাকলেও বেশীরভাগ এনজিও এই নিয়ম মানেনা। নিয়ম অমান্যকারী এনজিওর বিরুদ্ধে সরকার ত্রাণ কার্যক্রম সাময়িক বা চিরস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে পারলেও এখনো কোন শাস্থির ব্যবস্থা রাখা যায়নি।
‎এনজিওগুলো মূলত এনজিও বিষয়ক ব্যুরো থেকে অনুমোদনের ভিত্তিতে কাজ করে। এই নির্দেশিকা না মানলে বা নিয়ম ভঙ্গ করলে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো তাদের অনুমোদনের নবায়ন বন্ধ বা বাতিল করতে পারে।
‎এনজিওর প্রকল্প কার্যক্রমের বার্ষিক অডিট রিপোর্টে স্থাানীয়দের ২৫ শতাংশ সহায়তার বিষয়টি না থাকলে অডিট আপত্তি উঠতে পারে, যা তাদের ভবিষ্যতে কাজ পাওয়ার সুযোগ কমিয়ে দেয়।
‎রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিলেও, এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাান হোস্ট কমিউনিটিকে তাদের নিজস্ব এলাকায় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক করে তুলছে। স্থাানীয় জনগণের এই আত্মত্যাগ ও দুঃখের বোঝা দীর্ঘমেয়াদী, যার সুষ্ঠু সমাধান ও মানবিক প্রত্যাবাসনই কেবল এই অবস্থার অবসান ঘটাতে পারে ।

‎এনজিও এবং আইএনজিওদের মানবিক সহায়তার আড়ালে স্থানীয়দের ন্যায্য অধিকার খর্ব করা এবং উন্নয়নের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে ।
‎এনজিওগুলোতে প্রচুর চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হলেও স্থানীয়দের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করে বহিরাগত ও অনভিজ্ঞ লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া, এবং স্থানীয় শিক্ষিত তরুণদের উপেক্ষা করা হয় চরম ভাবে।
‎অনেক সময় নিয়োগের শর্তে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের বাদ দেওয়া হয়।

‎বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। স্থানীয়রা আগের চেয়ে অনেক বেশি দামে চাল, মাছ ও সবজি কিনতে হচেছ, যা স্থানীয় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অসহনীয়।
‎রোহিঙ্গারা কম মজুরিতে কাজ করায় স্থানীয় দিনমজুররা কাজ হারিয়েছে। স্থানীয় যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়েছে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি।
‎রোহিঙ্গা ক্যাম্প স্থাপন করতে গিয়ে হাজার হাজার একর সংরক্ষিত বন ও পাহাড় কাটা হয়েছে। অনেক চাষযোগ্য জমি এখন আর আবাদ করা যাচেছ না, যা স্থানীয়দের প্রধান আয়ের উৎস ছিল।
‎ক্যাম্পের ভেতরে ও আশেপাশে চুরি, ডাকাতি ও মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধী চক্রের কারণে স্থানীয় এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
‎বিপুল মানুষের চাপে এলাকার রাস্তাঘাট, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের নিজস্ব জমি ও সম্পদ ব্যবহার করতে পারছেন না, যা তাদের জন্য চরম হতাশার কারণ। মাদক এর ভয়াবহ পরিস্থিতি যুবসমাজের ধ্বংসের কারন। রাস্ট্রের নিরাপত্তা আজ হুমকির সম্মুখীন। দেশের অপার সম্ভাবনা ময় পর্যটন শিল্পের বিকাশের পথ রুদ্ধ হওয়ার পথে।

‎বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় জানিয়েছে, তারা সরকার ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, আশ্রয়, সুরক্ষাসহ জরুরি জীবনরক্ষাকারী সহায়তাকে অগ্রাধিকার দিতে কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা কমার আশঙ্কাসহ রাখাইন রাজ্যে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
‎বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ আরো জটিল হয়ে উঠেছে। কারণ রাখাইন এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। সেখানে জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জান্তার পাশাপাশি অন্যদের সম্পৃক্ততা জরুরি। কিন্তু গৃহযুদ্ধে মুখোমুখি দুটি পক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হচেছ না। বাংলাদেশের ক্যাম্পগুলোয় সব মিলিয়ে এখন রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৪ লাখেরও বেশি। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ২০১৭ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারে তৎকালীন ক্ষমতাসীন অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিল, যার মধ্য¯স্থতায় ছিল চীন। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ১ লাখ ৮০ হাজার জনকে সম্প্রতি মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটি। তাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত নয়।
‎বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের সংরক্ষিত বন রোহিঙ্গাদের বসতি নির্মাণের কারণে ধ্বংস হয়েছে। আবার রোহিঙ্গাদের অবস্থান স্থানীয় বাংলাদেশীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খাদ্য ও কাজের সুযোগের অভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্থানীয় নিম্ন আয়ের অনেক মজুর কাজ হারাচেছন। কারণ পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গারা অনেক কম দামেও শ্রম বিক্রিতে আগ্রহী।
‎সরজমিন তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, কক্সবাজার অঞ্চলে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, লবণ চাষ, কৃষি বা নির্মাণসহ যেসব খাতে শ্রমিক প্রয়োজন, সেখানে রোহিঙ্গারা কাজে যুক্ত হচেছন। এতে স্থানীয়রা বেকার হয়ে অমানবিকতার কারনে সামাজিক অসন্তোষ তৈরি হচেছ। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক চোরাচালানের প্রবণতা দিনদিন বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। জানা যায়, সীমানার ওই পাড়ে গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান নিয়ন্ত্রণকারীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ইয়াবার মতো মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এক্ষেত্রে সস্তায় মাদক বহনকারী হিসেবে রোহিঙ্গারা ব্যবহৃত হচেছ।
‎ক্যাম্প নির্মাণের ফলে যে পরিমাণ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়েছে, তা পুনঃবৃক্ষায়নের মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া।
‎কক্সবাজারের রাস্তাঘাট ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ করা।
‎রোহিঙ্গা সংকট এখন কেবল মানবিক সংকট নয়, এটি একটি জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উচিত হবে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং একই সাথে ¯’ানীয় জনগোষ্ঠীর ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
‎এই অচলাবস্থা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কঠোর তদারকি, স্থানীয়দের জন্য পৃথক কর্মসংস্থান কোটা সংরক্ষণ এবং ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি হোস্ট কমিউনিটির পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

‎লেখকঃ এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী – মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম জাতীয় কমিটি, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম ও চেয়ারম্যান পালংখালী ইউনিয়ন, পরিষদ, উখিয়া।।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

উখিয়া সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া প্রতিনিধি (কক্সবাজার) প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
উখিয়া সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এক সফল অভিযান পরিচালনা করে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ কামাল (৩৩) নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি)। বিজিবির আভিযানিক দলের বিচক্ষণতা ও সতর্ক অবস্থানের কারণে সীমান্ত পারাপারের এই বড় ধরনের মাদক চোরাচালানের চেষ্টা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গভীর রাতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীনস্থ বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল সীমান্ত সংলগ্ন কাটাপাহাড় এলাকার শাহজাহানের ঘের নামক স্থানে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আটককৃত মোঃ কামাল উখিয়া থানাধীন বালুখালী জমিদারপাড়া গ্রামের অধিবাসী কবির আহমেদের ছেলে।

ঘটনার বিশদ বিবরণ প্রদান করে বিজিবি সূত্র জানায়, মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চল থেকে একদল চোরাকারবারি বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন গোয়েন্দা তথ্য পান বালুখালী বিওপির টহল দলের সদস্যরা। উক্ত খবরের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা কালবিলম্ব না করে উখিয়ার কাটাপাহাড় শাহজাহানের ঘের এলাকায় আড়াল নিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মায়ানমার সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করে এক ব্যক্তিকে চরম সতর্কতার সাথে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখেন বিজিবি সদস্যরা।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি কাছাকাছি পৌঁছালে বিজিবির চৌকস দল তাকে লক্ষ্য করে থামার জন্য চ্যালেঞ্জ জানায়। তবে বিজিবির স্বশরীরে উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত ব্যক্তি সাথে থাকা মালামালসহ দ্রুত কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় বিজিবি সদস্যরা তাকে চারদিক থেকে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকেই জাপটে ধরে আটক করতে সক্ষম হন। আটক করার পর উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তার হাতে থাকা একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো খাকী প্যাকেটের ভেতর থেকে বিশেষ কৌশলে রাখা নীল রঙের ৪টি প্যাকেটে মোট ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) পিস ক্ষতিকারক ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

আটককৃত মোঃ কামালকে ঘটনার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে বিজিবির কাছে সরাসরি স্বীকার করেছে যে, সীমান্ত পার হয়ে মায়ানমার এলাকা থেকে অত্যন্ত কম মূল্যে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয় করে সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা মাদক কারবারিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে অবৈধ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যেই সে এগুলো বহন করছিল।

এই সফল অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের সত্যতা সুনিশ্চিত করে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বিজিবির প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চালানের পেছনের মূল সরবরাহকারী, অর্থদাতা ও নেপথ্যের কারবারীদের সঠিকভাবে সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সীমান্ত জুড়ে বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে ক্ষতিকর ইয়াবা ও মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধে ৬৪ বিজিবির এই সময়োপযোগী ও জোরালো অভিযান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সীমান্ত রক্ষীদের এমন কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি অব্যাহত থাকলে দেশের যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

উখিয়ায় পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সক্রিয় সন্ত্রাসী জহির গ্রেফতার

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সক্রিয় সন্ত্রাসী জহির গ্রেফতার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫)। এই উদ্ধার অভিযানে সন্ত্রাসী সদস্যটির কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এহেন সফল অভিযানে ক্যাম্প এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

র‌্যাব সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে উখিয়া থানাধীন ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মরাগাছতলা এলাকার মাল্টিপারপাস কমিউনিটি অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারের সামনের পাকা রাস্তার ওপর চেকপোস্ট স্থাপন করে এই ঝটিকা অভিযানটি চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীর নাম মোহাম্মদ জহির (১৯)। সে উখিয়ার ময়নারঘোনা ১২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (ব্লক-০২)-এর স্থায়ী বাসিন্দা রশিদ আহম্মদের ছেলে।

অভিযানের বিষদ বিবরণ দিয়ে র‌্যাব-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-২ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল মরাগাছতলা সাকিনস্থ ইট সলিং রাস্তার ওপর বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। ওই সময় পথচারীদের চলাচলের মাঝে যুবক জহিরের গতিবিধি ও উপস্থিতি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হলে র‌্যাব সদস্যরা তাকে থামার সংকেত দেন এবং আটক করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত পোশাকের ভেতর থেকে একটি বিদেশি তৈরি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত তরুণ সন্ত্রাসী জহির স্বীকার করেছে যে, সে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরসার (ARSA) একজন সক্রিয় ও তালিকাভুক্ত সদস্য। সে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বেআইনি অস্ত্র বহন, সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানাবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

ঘটনার সত্যতা ও আইনানুগ ব্যবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত করে র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, আটককৃত জহিরের বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে ১৮৭৮ সালের প্রচলিত অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত অবৈধ আলামতসহ তাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাবের এই মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা রোধে র‌্যাবের এমন ধারাবাহিক ও সফল অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে ক্যাম্প ও স্থানীয় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে।

শাহপরীর দ্বীপে কোটি টাকার আইসের চালান জব্দ করল র‍্যাব-১৫

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া প্রতিনিধি (কক্সবাজার) প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
শাহপরীর দ্বীপে কোটি টাকার আইসের চালান জব্দ করল র‍্যাব-১৫

কক্সবাজারের সীমান্তবেষ্টিত টেকনাফ উপজেলায় এক বিশেষ ও সাহসিক অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক কয়েক কোটি টাকা মূল্যমানের ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৫)। সীমান্ত পার হয়ে আসা ভয়াল এই মাদকের চালান জব্ধ করার বিষয়টি শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

র‍্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল একটি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য পায়। আভিযানিক দলটি জানতে পারে যে, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত শাহপরীর দ্বীপ মাঝের ডেইল এলাকায় জনৈক খামিন মাঝির বসতবাড়ির পাশে কতিপয় মাদক কারবারি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কেনাবেচার উদ্দেশ্যে গোপন অবস্থান গ্রহণ করেছে।

প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে গভীর রাতে আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে র‍্যাবের চৌকস দল উক্ত স্থানে অভিযান চালাতে পৌঁছায়। এ সময় এলাকাটিতে র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থান টের পেয়ে ধূর্ত মাদক ব্যবসায়ীরা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ফেলে রেখেই রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে র‍্যাব সদস্যরা স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত প্লাস্টিকের ব্যাগটি নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি করেন। ব্যাগটির ভেতর থেকে ১ কেজি করে মোট ৩টি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। চায়ের প্যাকেটের আদলে তৈরি প্যাকেটগুলোর গায়ে “GUANYINWANG” লেখা ছিল এবং সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে নিখাদ ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে যে একটি সুচিহ্নিত ও সংগঠিত মাদক কারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মায়ানমার সীমান্ত ব্যবহার করে অত্যন্ত গোপনে এই মারাত্মক ও নতুন প্রযুক্তির মাদক দেশে নিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে এসব চালান কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ সমাজের হাতে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। উদ্ধারকৃত কোটি টাকার এই আইসের চালান পরবর্তী আইনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ও পলাতক আসামিদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের প্রবেশের বিরুদ্ধে র‍্যাবের এই ধরনের কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। টেকনাফ ও সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা গেলে এমন ভয়াল আইস চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে।