নিজের পকেটে টিস্যু রাখার অভ্যাস প্রধানমন্ত্রীর, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীর সহযোগিতা চান তারেক রহমান
বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন’ এবং দূষণমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের দেশবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের এই প্রিয় দেশটাকে সুন্দর, নিরাপদ এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য প্রকৃত বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে সকলকে মিলেমিশে সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা যদি নিজেদের ঘর এবং দেশকে নিজেরা পরিচ্ছন্ন না রাখি, তাহলে এই দেশ কখনো পরিষ্কার থাকবে না। বাইরে থেকে অন্য কোনো দেশ বা কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না। কাজেই দেশটাকে সুন্দর করে সাজাতে হলে আমাদের সকলকে মিলেই ঐকান্তিক চেষ্টা চালাতে হবে।’ আজ সোমবার সকালে বরিশালের গৌরনদীর ঐতিহ্যবাহী সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে উপস্থিত স্থানীয় গ্রামবাসীদের উদ্দেশে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
বক্তব্য চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ জানাব, আসুন আমরা আজ থেকেই প্রতিজ্ঞা করি এবং চেষ্টা করি যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে। আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহার করা কোনো জিনিস, বিশেষ করে প্লাস্টিকের পানির খালি বোতল, আমরা যেন তত্রতত্র বা যেখানে-সেখানে ছুঁড়ে ফেলে না দিই। ধরুন, কোনো একটা প্যাকেটে করে আমরা প্রয়োজনীয় কিছু নিয়ে যাচ্ছি। ভেতরের জিনিসটা বের করার পর প্যাকেটটার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেলে সেটি আমরা যত্রতত্র ফেলে দিচ্ছি। এতে করে আমাদের চারপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়। আর এই পরিবেশ যদি একবার ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পরবর্তীতে আমাদের সন্তানেরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
এ পর্যায়ে নিজের একটি ব্যক্তিগত শৃঙ্খলার উদাহরণ টেনে এবং পকেট থেকে ব্যবহৃত টিস্যু বের করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পকেটে হাত দিলে এখনই টিস্যু বের হবে। একটু আগে গাছের মাটি ধরার পর হাত ধুয়ে আমি এই টিস্যুটা ব্যবহার করেছি, তারপর সেটা মাটিতে ফেলে না দিয়ে নিজের পকেটেই রেখে দিয়েছি। আমি যদি নিজে এখানে টিস্যুটা ফেলতাম, তাহলে আপনাদের যা বলছি আমি নিজেই তো সেটি মেনে চললাম না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি এই অভ্যাসটি নিজের মধ্যে গড়ে তুলেছি। যখনই আমি টিস্যু ব্যবহার করি, সেটি পকেটের মধ্যে রেখে দিই। আমার যেকোনো প্যান্টের পকেটে হাত দিলেই ব্যবহার করা এমন টিস্যু বের হয়ে আসবে। সারাদিনে ব্যবহার করা সব টিস্যুই অনেক সময় আমার প্যান্টের পকেটে জমা হয়। পরবর্তীতে রাতে বাসায় ফিরে ডাস্টবিনে বা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে সেগুলো একবারে ফেলে দিই। এই কাজটি আমি সারাজীবন সবসময় করার চেষ্টা করেছি এবং এভাবেই আস্তে আস্তে আমার মধ্যে এই সুন্দর অভ্যাসটা গড়ে উঠেছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত সকলের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যদি আজ থেকেই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করি, তবে আমরা সকলে মিলে এই দারুণ অভ্যাসটি নিজেদের মধ্যে গড়ে তুলতে সক্ষম হব। এতে করে আমরা একটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেশ বিশ্ববাসীকে উপহার দিতে পারব, যেখানে আমাদের পরিবেশটাও হবে অত্যন্ত চমৎকার। সেই সুন্দর দেশ দেখে সবাই আমাদের প্রশংসা করবে। আমাদের নিজেদের দেশের মানুষ যেমন গর্ব করে প্রশংসা করবে, তেমনি বিদেশিরাও এ দেশে এসে বলবে যে, বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর দেশ। বাংলাদেশের মানুষ তাদের নিজেদের দেশটাকে খুব সুন্দর করে গুছিয়ে রেখেছে।’
বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে দাঁড়িয়ে খালের পানিতে দুটি প্লাস্টিকের বোতল ভাসতে লক্ষ্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘এই দেখুন, আমাদের চোখের সামনেই খালের পানিতে প্লাস্টিকের বোতল ভাসছে। আপনাদের নিজেদের বাড়িতে যদি পাঁচ-সাতজন মানুষ থাকে, তার মধ্যে একজন যদি সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে বাড়ি পরিষ্কার করে আর বাকি সবাই অবহেলা করে ময়লা করতে থাকে, তবে ওই বাড়ি কখনো পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয় এবং গুছিয়ে রাখাও সম্ভব নয়। আমাদের এই দেশটাও তো একটা বড় ঘরের মতোই। মাত্র কয়েকজন মানুষ যদি শুধু পরিষ্কারের কাজ করে আর দেশের বাকি সবাই নোংরা করতে থাকে, তাহলে এই দেশটাকে পরিচ্ছন্ন রাখা একেবারেই অসম্ভব। তাই আমাদের সকলকে মিলেই দেশটাকে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যদি চারদিকে এভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ময়লা ফেলি, তবে একদিকে যেমন সেটি দেখতে অত্যন্ত খারাপ লাগবে, অন্যদিকে আমাদের পরিবেশও মারাত্মক নোংরা হবে। আপনারা যখন বাসে করে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন, বরিশাল সদরে কিংবা রাজধানী ঢাকায় যান, তখন লক্ষ্য করবেন বাজারে এবং বিভিন্ন দোকানের চারপাশে নানান ধরনের আবর্জনা উপচে পড়ছে। ময়লা দেখতে পৃথিবীর কার ভালো লাগে? তাছাড়া এর ফলে পরিবেশ নোংরা হয়ে যায় এবং দূষণও জ্যামিতিক হারে বাড়ে। আর এসব পরিবেশ দূষণের কারণে শেষ পর্যন্ত আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্যেরই বড় ক্ষতি হয়। তাই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করে দেশটাকে সুন্দর করে গড়ে তুলি।’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও সুস্থ দেশ গড়তে সকলকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন আজকের এই পবিত্র বৃক্ষরোপণের দিনে আমরা সকলে মিলে মনেপ্রাণে প্রতিজ্ঞা করি যে, আমরা প্রত্যেকটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করব। আমাদের আশপাশের পরিবেশের প্রতি আমরা সর্বোচ্চ যত্ন নেব। আমরা চেষ্টা করব আশপাশের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট যতটুকু সম্ভব পরিচ্ছন্ন রেখে পরিবেশটাকে রক্ষা করতে।’ উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং দেশের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
বরিশালের গৌরনদীতে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা। নিজের পকেটে টিস্যু রাখার মতো ক্ষুদ্র অভ্যাস কীভাবে একটি রাষ্ট্রকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতে পারে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তা নিজ আচরণে দেখিয়েছেন। পরিবেশ রক্ষা এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জন এখন সময়ের দাবি।









