চকরিয়ায় র্যাব-১৫ এর অভিযান: সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি নাছির গ্রেফতার
কক্সবাজার জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে এবং আদালতের পরোয়ানাভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের চকরিয়া থানাধীন খুটাখালী ইউনিয়ন এলাকায় একটি অত্যন্ত সফল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত এবং ওয়ারেন্টভুক্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি নাছির হোসেন (৪০)-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৫ (র্যাব)। কুখ্যাত এই পলাতক আসামির গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
র্যাব-১৫-এর নির্ভরযোগ্য অফিশিয়াল সূত্র থেকে জানা গেছে, আজ শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চকরিয়া থানার খুটাখালী গর্জনতলী এলাকা থেকে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম নাছির হোসেন। সে চকরিয়া থানার খুটাখালী গর্জনতলী এলাকার মৃত গুরা মিয়ার ছেলে। আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই সে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে ছদ্মবেশে পলাতক জীবনযাপন করছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধ সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ধৃত আসামি নাছির হোসেনের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত বন আইনের মামলা এবং এনআই অ্যাক্টের (চেক জালিয়াতি) সুনির্দিষ্ট সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানা রয়েছে। বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক একাধিক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই নাছির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে সুকৌশলে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিল।
র্যাব আরও জানায়, গোপন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, সিপিসি-২ (কক্সবাজার) এর একটি চৌকস ও অত্যন্ত চটপটে আভিযানিক দল জানতে পারে যে, চকরিয়া থানার খুটাখালী গর্জনতলী এলাকায় উক্ত ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি বর্তমানে অবস্থান করছে। এই সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের আভিযানিক দলটি কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সুনির্দিষ্ট ওই এলাকায় ঘেরাও অভিযান পরিচালনা করে এবং আত্মগোপনে থাকা আসামিকে কোনো প্রকার পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে পুরোপুরি সক্ষম হয়।
অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর র্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাছির হোসেনের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানায় হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। চকরিয়া থানা পুলিশ পরবর্তীতে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন যে, চকরিয়াসহ সমগ্র কক্সবাজার অঞ্চলে অপরাধ দমন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধ এবং আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে র্যাবের এই ধরনের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
চকরিয়ার খুটাখালীতে সিপিসি-২ র্যাব-১৫-এর এই ঝটিকা অভিযান ও সফল গ্রেফতারের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, আদালতের সাজা মাথায় নিয়ে অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বন আইন ও চেক জালিয়াতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাছির হোসেনের গ্রেফতার হওয়ার মধ্য দিয়ে আইনি শাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।






