টেকনাফের চাঞ্চল্যকর আনোয়ার সাদেক হ/ত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি খুরুশকুলে গ্রেফতার
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী শরণার্থী ক্যাম্পে সংঘটিত অত্যন্ত আলোচিত ও নৃশংস আনোয়ার সাদেক প্রকাশ গুডিশ্যা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে বড় সাফল্য পেয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। টেকনাফের হ্নীলা নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ভেতরের সেই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতাদের একজন তথা মামলার ২ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি নুরুল ইসলাম (৩২)-কে অবশেষে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। গতকাল ১৭ জুলাই (২০২৬) শুক্রবার রাতে কক্সবাজার সদর থানার খুরুশকুল এলাকা থেকে তাঁকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়, যার ফলে এই হত্যাকাণ্ডের সুবিচারের পথ আরও প্রশস্ত হলো।
র্যাব-১৫-এর নির্ভরযোগ্য অফিশিয়াল সূত্র থেকে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত এই দুর্ধর্ষ আসামির নাম নুরুল ইসলাম। তিনি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের অন্তর্গত নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের (ব্লক-সি, শেড-৮৫৬) বাসিন্দা হালাইয়ার ছেলে এবং ক্যাম্পে তাঁর এমআরসি নম্বর-৩৭২৯৬। আনোয়ার সাদেককে নির্মমভাবে খুন করার পর থেকেই এই আসামি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে নিজের পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন স্থানে যাযাবরের মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।
র্যাব-১৫ আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই আসামির অবস্থান নিশ্চিত করতে ছায়া তদন্ত ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছিল। অবশেষে সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, সদর ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস ও অত্যন্ত চটপটে আভিযানিক দল গতকাল ১৭ জুলাই শুক্রবার রাত আনুমানিক ২৩:৩৫ ঘটিকার সময় কক্সবাজার সদর থানাধীন খুরুশকুল রাস্তার মাথা সংলগ্ন রফিকের অটো রিক্সা গ্যারেজ এলাকায় একটি বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। ওই এলাকায় অবস্থান নিয়ে আভিযানিক দলটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে চারপাশ ঘেরাও করে সুকৌশলে আত্মগোপনে থাকা হত্যা মামলার দ্বিতীয় প্রধান আসামি নুরুল ইসলামকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে পুরোপুরি সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি তারিখ দুপুর আনুমানিক ১৪:৩০ ঘটিকার সময় টেকনাফের হ্নীলা ইউপিস্থ নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের ‘সি’ ব্লক এলাকার অভ্যন্তরে আনোয়ার সাদেক প্রকাশ গুডিশ্যা-কে পূর্ব শত্রুতার জেরে চরম নৃশংস ও নির্মমভাবে হত্যা করে নুরুল ইসলাম ও তার সংঘবদ্ধ সহযোগীরা। এই বর্বরোচিত ও পাশবিক হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো ক্যাম্প এলাকা ও স্থানীয় জনপদে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত খুনিরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিভিন্ন দুর্গম স্থানে আত্মগোপন চলে যায়। এই বর্বরোচিত ও জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরবর্তীতে নিহত আনোয়ার সাদেকের আপন বোন আয়েশা বেগম বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর থেকেই জঘন্য এই অপরাধের সাথে জড়িত আসামিদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক তৎপরতা বহুগুণ জোরদার করে র্যাব-১৫। অবশেষে দীর্ঘ কয়েক মাসের নিবিড় প্রচেষ্টায় মামলার দ্বিতীয় প্রধান আসামিকে খুরুশকুল থেকে বাগে আনতে সক্ষম হন র্যাব সদস্যরা। গ্রেফতারকৃত এই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করার আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে জোরালোভাবে চলমান রয়েছে। এছাড়া আনোয়ার সাদেক হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতারে র্যাবের চিরুনি অভিযান ও গভীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।
টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের আনোয়ার সাদেক হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নুরুল ইসলামের গ্রেফতারের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অপরাধ করে দেশের কোথাও পার পাওয়া সম্ভব নয়। কক্সবাজারের খুরুশকুলে র্যাবের এই দূরদর্শী ঝটিকা অভিযান স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং পলাতক বাকি আসামিদের জন্য এটি একটি বড় বার্তা।






