টেকনাফে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রশিদুল গ্রেফতার
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে অপরাধ দমন ও পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর তৎপরতা জারি রেখেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের টেকনাফে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে মাদক মামলার ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে পলাতক থাকা এক দুর্ধর্ষ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টেকনাফ থানাধীন রঙ্গীখালী এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত এই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতারকৃত ওই সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম রশিদুল ইসলাম (৩০)। তিনি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে। ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ মাথায় নিয়ে রশিদুল দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব-১৫-এর অফিশিয়াল সূত্র থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানার একটি চাঞ্চল্যকর মাদক আইনের মামলায় আসামি রশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা প্রদানের রায় ঘোষণা করেন। একই সাথে জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন বিজ্ঞ আদালত। সাজা ঘোষণার পর থেকেই আইনি প্রক্রিয়া ও শাস্তি এড়াতে রশিদুল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অজ্ঞাত স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত চতুরতার সাথে আত্মগোপন করেছিলেন।
পরবর্তীতে র্যাব-১৫, সিপিসি-২ এর একটি চৌকস ও দূরদর্শী আভিযানিক দল গোপন সংবাদ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত ওই মাদক মামলার আসামি বর্তমানে টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকায় অবস্থান করছেন। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিপিসি-২ এর আভিযানিক দলটি ওই এলাকায় একটি বিশেষ ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের ঘেরাওয়ের মুখে পড়ে কোনো প্রকার পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না পেয়ে অবশেষে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হতে বাধ্য হয় রশিদুল।
অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর র্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, গ্রেফতারকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামি রশিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া ও আদালতের নির্দেশনা সম্পন্ন করার নিমিত্তে তাকে কক্সবাজারের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। টেকনাফ থানা পুলিশ এখন তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এলাকার সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও মাদক নির্মূলে র্যাবের এমন তাৎক্ষণিক ও সময়োপযোগী অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে প্রশাসন।
টেকনাফের রঙ্গীখালীতে র্যাব-১৫-এর এই ঝটিকা অভিযান ও সফল গ্রেফতারের ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রশিদুল ইসলামের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার পুরোনো মাদক মামলার ন্যায়বিচার কার্যকর করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নিল।






