কক্সবাজার সদরের চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি সাইফুল্লাহ টেকনাফে গ্রেফতার
কক্সবাজার জেলাজুড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমন, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার সদর থানার একটি অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি মামলার এজাহারনামীয় প্রধান পলাতক আসামি সাইফুল্লাহকে (৩০) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ থানা এলাকায় পরিচালিত র্যাবের একটি ঝটিকা অভিযানে কুখ্যাত এই চাঁদাবাজকে আইনের আওতায় আনা হয়, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
র্যাব-১৫-এর নির্ভরযোগ্য অফিশিয়াল সূত্র থেকে জানা গেছে, গত রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮:৩০ ঘটিকার সময় টেকনাফ থানাধীন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম সাইফুল্লাহ। সে টেকনাফ থানার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উত্তর হ্নীলা (রইক্ষ্যং) এলাকার বাসিন্দা রসিদ আহামদের ছেলে। কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়েরের পর থেকেই সে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় সুকৌশলে আত্মগোপন করে আসছিল।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গোপন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, সিপিসি-২ এর একটি চৌকস ও অত্যন্ত চটপটে আভিযানিক দল জানতে পারে যে, চতুর এই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি টেকনাফের আমতলী এলাকায় অবস্থান করছে। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের আভিযানিক দলটি কালক্ষেপণ না করে দ্রুত ও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আমতলী এলাকায় এক ঝটিকা ও ঘেরাও অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের চারমুখী বেষ্টনীর মুখে পড়ে কোনো প্রকার পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না পেয়ে অবশেষে হাতেনাতে গ্রেফতার হতে বাধ্য হয় মামলার মূল হোতা সাইফুল্লাহ।
র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সফল অভিযানের পর গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে র্যাব সর্বদা বদ্ধপরিকর ও তৎপর রয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ দমনে র্যাবের এই ধরনের জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে কক্সবাজার জেলার সংশ্লিষ্ট সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে জোরালোভাবে চলমান রয়েছে। কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ পরবর্তীতে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। চাঁদাবাজি মামলার মূল আসামির গ্রেফতারের খবরে ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
কক্সবাজার সদর থানার চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি মামলার প্রধান আসামি সাইফুল্লাহকে টেকনাফের হোয়াইক্যং থেকে গ্রেফতারের ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সিপিসি-২ র্যাব-১৫-এর এই ঝটিকা ও সফল অভিযান জেলায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদাবাজদের দমনে প্রশাসনের কঠোর মানসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।






