রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম:
গাজীপুর জেলার মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণচট্টগ্রামে ডিসি ও এসপির সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদের সাক্ষাৎ, ২১ সদস্যের কমিটির অনুলিপি হস্তান্তরউখিয়ায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিতগাজীপুরে এসপির নির্দেশনায় নকল স্যালাইন সরবরাহকারী গ্রেফতারজিএমপি পূবাইল থানার অভিযানে জুয়া আইন মামলায় গ্রেফতার -০৩হিলিতে কাঁচা মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী, প্রতিকেজি ৩২০ টাকাজিসিসির ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ৫ হাজার ১০২ কোটি ৩৫ লাখ ৮ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা:হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের মাসিক সভা অনুষ্ঠিতউখিয়ায় র‍্যাব-১৫ এর অভিযান: ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক রোহিঙ্গা আসামি গ্রেপ্তার১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মেহের আলী রামুর রসিদনগর থেকে গ্রেফতার ‎গাজীপুর পূবাইলে দুর্ধর্ষ চুরি-ডাকাতি: স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মালামাল লুটজিএমপি সদর থানার বিশেষ অভিযানে ০৯ মামলার আসামিসহ গ্রেফতার -১৪উখিয়ায় হ/ত্যা মামলার দীর্ঘদিন পলাতক আসামি র‌্যাব-১৫ এর জালে ‎‎উখিয়ার ওমর মিয়ার ঘোনায় ‘রোহিঙ্গা দিল মোহাম্মদ সিন্ডিকেট’: পাহাড় কাটা, বনভূমি দখল ও অপরাধের সাম্রাজ্যউখিয়ায় ইয়াবা বহনে রাজি না হওয়ায় দিনমজুরকে মারধর ও অপহরণচেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত ডায়েরি

ঘোড়াঘাটে বলগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, পাঠদান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
ঘোড়াঘাটে বলগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, পাঠদান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
১৩৫

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বলগাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চরম স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি এবং অনৈতিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এই বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে গত রোববার (১৯ জুলাই) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখায় সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বলগাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও বিদ্যালয়ের মূল্যবান সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগে সরকারিভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত পরিচালিত হয়। সেই সরকারি তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অধিকাংশ অভিযোগ দালিলিকভাবে প্রমাণিত হলেও, সম্প্রতি তাঁর অবসর ভাতা ও কল্যাণ তহবিলের বিপুল অর্থ ছাড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট উচ্চতর দপ্তরে তোড়জোড় শুরু করেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি সাবেক প্রধান শিক্ষকের পক্ষে সুপারিশ ও অগ্রায়নপত্র পাঠালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং এর পর থেকেই সাধারণ শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাঝে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে রোববার থেকে শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান কার্যক্রম থেকে পুরোপুরি বিরত রয়েছেন। এর ফলে সোমবারও কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এলেও শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষক না থাকায় চরম হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকদের মনে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের স্পষ্ট অভিযোগ, সাবেক প্রধান শিক্ষকের প্রমাণ হওয়া দুর্নীতির আকাশচুম্বী অনিয়মকে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সম্পূর্ণ আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বকেয়া টিউশন ফি শিক্ষকদের পরিশোধ না করা এবং বিদ্যালয়ের আবাদি জমি লিজের বিপুল অর্থ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষিত না থাকায় তাঁরা এই কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের নথি সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট বিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষক-কর্মচারীরা তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও নথিপত্র নষ্ট করার অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত আবেদন করেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছিল, তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে শিক্ষকদের ন্যায্য টিউশন ফির অর্থ পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও কোনো ধরনের সরকারি টেন্ডার বা নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ২৬৫টি মূল্যবান ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রি করে আনুমানিক ২৬ লাখ টাকা পকেটে পুরেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘোড়াঘাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উদ্যোগে ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর ও একাডেমিক সুপারভাইজারকে নিয়ে গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে দুর্নীতির সত্যতা মেলে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তৎকালীন সময়ে সাধারণ শিক্ষকদের পক্ষে আন্দোলনের অন্যতম মূল নেতৃত্বদানকারী ও অভিযোগপত্রের স্বাক্ষরকারী ছিলেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম, যার বর্তমান রহস্যজনক অবস্থান পরিবর্তনে শিক্ষক মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এই উদ্ভূত পরিস্থিতির স্থায়ী প্রতিকার ও ন্যায়বিচার চেয়ে গত ৯ জুলাই ২০২৬ ইংরেজি তারিখে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মেজবাউল আলম সরকার বিদ্যালয়ের সভাপতি তথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সাবেক প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর বর্তমান ইউএনও আমাকে তাঁর পেনশনের কাগজপত্র যাতে আটকে না থাকে এবং বিদায় সংবর্ধনার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সভাপতি ইউএনওর স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র পাঠাতে আমি শুধু প্রশাসনিক সহযোগিতা করেছি। এখানে কোনো আর্থিক লেনদেন বা দুর্নীতির প্রশ্নই আসে না।” অন্যদিকে, ঘোড়াঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ রুবানা তানজিন জানান, “আমি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন তৎকালীন ইউএনও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠান। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

বলগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের এই প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের রহস্যজনক ভূমিকা হিলির শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর একটি বড় কালো দাগ ফেলে দিয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন রক্ষার্থে ও বলগাড়ী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের চলমান তীব্র সংকট দ্রুত নিরসন করে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন অভিভাবক মহল।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

গাজীপুর জেলার মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

রাজু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:০০ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুর জেলার মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

গাজীপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে এবং নিজস্ব অর্থায়নে জেলার মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন সুগম করার লক্ষ্যে এক শুভ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে গাজীপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অর্থ ও চেক সফলভাবে হস্তান্তর করা হয়। শিক্ষা অর্জনে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যেই জেলা প্রশাসন ও পরিষদের পক্ষ থেকে এই কল্যাণমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

উক্ত গুরুত্ববহ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই সভাপতি মহোদয় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জনাব ফজলুল হক মিলন, এমপি। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং আর্থিক অনটনে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমকে টিকিয়ে রাখা জাতীয় দায়িত্বের একটি অংশ। এ ধরনের সামাজিক সহায়তা তাদের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এমপি। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ওমর ফারুক শাফিন। অতিথিবৃন্দ প্রত্যেকেই শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতা ও চমৎকার শৈলীতে সঞ্চালনা করেন গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও উপসচিব) জনাব নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শেষভাগে আমন্ত্রিত অতিথিগণ মঞ্চে উপস্থিত হয়ে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন।

এ সময় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, অর্থ সহায়তাপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী, সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

শিক্ষা সহায়তার এই মহতী উদ্যোগ গাজীপুর জেলার অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সামনে এগোনোর পথকে আরও প্রসারিত করবে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই তরুণরাই ভবিষ্যতে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।

চট্টগ্রামে ডিসি ও এসপির সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদের সাক্ষাৎ, ২১ সদস্যের কমিটির অনুলিপি হস্তান্তর

শাহিন আকতার, পটিয়া প্রতিনিধি: প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে ডিসি ও এসপির সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদের সাক্ষাৎ, ২১ সদস্যের কমিটির অনুলিপি হস্তান্তর

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অনুলিপি হস্তান্তর করছেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ। সাক্ষাতকালে প্রতিনিধিদলটি নবগঠিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদনপত্র বা অনুলিপি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) হাতে স্ব-শরীরে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের বিভাগীয় কমিটির সম্মানিত আহ্বায়ক মো. আনোয়ার হোসেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ কামাল, সদস্য সচিব ফয়সাল আহম্মদ বাবু এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির প্রতিনিধি হুমাইরা নাসরিন তুহিন। প্রশাসনিক শীর্ষ দুই কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে সংগঠনের নানা দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠককালে সংগঠনের প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের নিকট বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদের মূল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের সার্বিক ঐক্য, মৌলিক অধিকার আদায় ও কল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মুক্তিযুদ্ধের মহৎ চেতনা ও মূল্যবোধকে ধারণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের সুসংগঠিত করা এবং তাঁদের অধিকার সুরক্ষায় এই সংগঠনটি সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

আলোচনাকালে প্রতিনিধিরা আরও জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন প্রতিটি জেলায় সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের এক ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ করা এবং সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি মাঠে কাজ করে যাবে।

সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দীর্ঘ আলোচনার সমাপনী পর্বে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারের প্রতি তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সময় দেওয়ার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন। একই সাথে আগামী দিনেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে পূর্ণ সমন্বয় ও সহযোগিতা বজায় রেখে সংগঠনের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রামে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের সাথে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও অনুলিপি প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ঐক্য পরিষদের বিভাগীয় সাংগঠনিক তৎপরতা আরও সুদৃঢ় হলো। স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার এই উদ্যোগ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের অধিকার রক্ষা ও জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তিকে বহুগুণে উজ্জ্বল করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

উখিয়ায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

‎মোঃ হারুন অর রশিদ উখিয়া প্রতিনিধি, (কক্সবাজার)। প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

‎কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার সর্বস্তরের জনসেবার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন জোরদার করার পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

‎২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব পান্না আক্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ (কক্সবাজার-৪) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী।

‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, উখিয়া-টেকনাফের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সাধারণ মানুষ যেন সরকারি সেবা পেতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।

‎সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, “উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে সকল দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”

‎সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব সরওয়ার জাহান চৌধুরী এবং উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেচান উল্লাহ সিকদার।

‎এছাড়াও সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

‎সভায় স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চলমান অবকাঠামোগত প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে দপ্তরগুলোর কাজের সমন্বয় বাড়িয়ে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করা হয়।