মাদারগঞ্জে প্রেমের প্রলোভনে প্রবাসীর ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
প্রেমের নাটক সাজিয়ে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রবাসী এক যুবকের কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার এক তরুণীর বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন সৌদি প্রবাসী ইকবাল হোসেন রিফাত নামের এক যুবক। তিনি প্রতারণার এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর বিচার দাবি করেছেন।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা নুর ইসলামের ছেলে ইকবাল হোসেন রিফাত বর্তমানে কাজের সূত্রে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। প্রায় দুই বছর পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা গ্রামের ইউসুফ মন্ডলের মেয়ে লামিয়া (২২)-র সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। প্রাথমিক পরিচয়ের পর থেকে দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হতে থাকে এবং একপর্যায়ে তা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয় বলে রিফাত দাবি করেন।
অভিযোগকারী রিফাতের ভাষ্যমতে, প্রেমের সম্পর্ক চলাকালীন লামিয়া তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং এমনকি পবিত্র কুরআন শরীফের ওপর হাত রেখে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। সময়ের সাথে সাথে লামিয়ার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও প্রবাসীর পরিচয় ও নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে ওঠে। ভালোবাসার সম্পর্ক এবং লামিয়া ও তার পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার মানবিক চিন্তাভাবনা থেকে গত দুই বছরে তিনি বিকাশ ও বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রায় চার লাখ টাকা পাঠান।
তবে বিপত্তি ঘটে বিগত দুই-তিন মাস আগে। প্রবাস থেকে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই লামিয়া তার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ রিফাতের। শুধু তাই নয়, প্রবাসীর দাবি অনুযায়ী, টাকা ফেরত চাওয়া তো দূরের কথা, বর্তমানে লামিয়ার পরিবারের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে এবং অভিযুক্ত তরুণী লামিয়ার বক্তব্য সংগ্রহ করতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে নম্বরটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ থাকায় তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে এই বিষয়ে মাদারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্নেহাশিস রায় গত বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মুঠোফোনে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ অবগত নন। তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশিভুক্তভোগী প্রবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
অনলাইন মাধ্যমে ভার্চুয়াল পরিচয় ও সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রবাসীদের সরলতার সুযোগ নেওয়া এবং প্রতারণা করার ঘটনা সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হচ্ছে। প্রবাসী যুবকের অভিযোগ সত্য হলে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে দোষীকে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।






