রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ: যুবক গ্রেপ্তারগুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসছে আগাম শীতের আমেজহিলিতে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন: চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসিহিলিতে অসময়ে মাচায় তরমুজ চাষ: প্রথমবারেই লাখপতি কৃষক আতিয়ারগাজীপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে প্রশাসনের প্রস্তুতিমূলক সভাবড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ: উত্তরাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিংহিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী, শিশুসহ আহত ৮প্রিজন ভ্যান থেকে ‘পিচ্চি রাজা’ পালানোর ঘটনায় বোনসহ গ্রেফতার ৩‎টেকনাফে মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সাইনবোর্ড উপড়ে জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ। ‎ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে তোড়জোড়: শীর্ষ পদে আলোচনায় যারাপৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অস্তিত্ব সংকটে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডুগাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: ৩৮ নং ওয়ার্ডে সৎ নেতৃত্ব ও উন্নয়নের প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছেন মোঃ কামরুজ্জামান (কামরুল)কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ​গাজীপুরে ঠিকাদার রানা মিয়াকে ঘিরে ষড়যন্ত্র: মিথ্যা মামলা নাকি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব?নরসিংদী ডিসি রোডে পৌরসভার জায়গা নিয়ে কথা

কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

প্রতিবেদক: এমদাদুল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ
৯৩

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে এক রাজনৈতিক নেতার প্রত্যক্ষ নির্দেশে এক বয়োজ্যেষ্ঠ অসহায় নারীর বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই আকস্মিক ও বর্বরোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনমনে গভীর ভীতি ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতা ও শঙ্কা প্রকাশ করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়েরকৃত ওই অভিযোগে স্থানীয় ৫নং যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনকে এই হামলার মূল ইন্ধনদাতা ও সরাসরি নির্দেশ প্রদানকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দেশে সংশ্লিষ্ট দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পদধারী নেতার এমন প্রভাব বিস্তার, এলাকায় দাপুটে বিচরণ এবং ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা জল্পনাকল্পনা ও তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​প্রাপ্ত অভিযোগ ও স্থানীয় তথ্যে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর নাম মোছা. রাবিয়া (৬২)। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর থানার অন্তর্গত মনোহরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গনির স্ত্রী। কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় দাখিলকৃত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তার বসতবাড়িতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানো হয়। কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই হামলায় পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

​ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিবরণীতে প্রকাশ, ঘটনার দিন বিকেলে অভিযুক্ত মো. আলী ইখতিয়ার খান (৫০)-এর নেতৃত্বে ৮ থেকে ৯ জনের একটি অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দল অতর্কিতে রাবিয়ার বাড়ির প্রবেশমুখে সমবেত হয়। তাদের কাছে রামদা, কিরিচ, লোহার রড ও শক্ত লাঠিসোঁটার মতো প্রাণঘাতী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল। লিখিত অভিযোগে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, অস্ত্রধারী এই সন্ত্রাসী দল মূলত আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলমগীর হোসেনের সরাসরি ইশারা, প্ররোচনা ও কঠোর নির্দেশনায় এই বর্বরোচিত হামলাটি পরিচালিত করেছে।

​হামলাকারী দলটি আঙিনায় ঢুকেই কোনো কারণ ছাড়াই রাবিয়াকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ ও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। বয়োজ্যেষ্ঠ নারী এই অন্যায্য আচরণের প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা আরও হিংস্র হয়ে ওঠে। তারা হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বসতঘরের মূল স্টিলের প্রবেশদ্বারে বেপরোয়াভাবে একের পর এক আঘাত করতে থাকে এবং দরজাটি ব্যাপকভাবে কুপিয়ে ক্ষতিসাধন করে। এমন ভয়াবহ তাণ্ডব প্রত্যক্ষ করে প্রাণভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত রাবিয়া দ্রুত ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন এবং ভেতর থেকে শক্তভাবে খিল আটকে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনোমতে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন।

​তাণ্ডব চালানোর পর ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের লোকজনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে। তারা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো ধরনের থানা-পুলিশ, আইনি ব্যবস্থা কিংবা মামলা-মোকদ্দমার আশ্রয় নিলে এর পরিণাম হবে অত্যন্ত মারাত্মক। একই সঙ্গে তাদের দাবি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের চাঁদা পরিশোধ করা না হলে পরবর্তীতে বসতঘরের সমুদয় মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে পুরো বাড়িটি জবরদখল করার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে তারা এলাকা ত্যাগ করে।

​এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় কাতর মোছা. রাবিয়া কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিশদ বিবরণ উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী তাণ্ডবের একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। সেই সাথে হামলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসী এবং নেপথ্যের মূল হুকুমদাতার বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণসহ নিজের পরিবারের সার্বিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোরালো আবেদন জানান।

​এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়। সাধারণ নাগরিকদের প্রশ্ন, বর্তমান বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন পদধারী নেতা প্রকাশ্যে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন এবং হামলা বা চাঁদা দাবির মতো দুঃসাহস দেখাচ্ছেন। গুরুতর এই অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পরও অভিযুক্তকে কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না, তা নিয়ে অনেকেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

​আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছে বলে নিশ্চিত করেছে। কিশোরগঞ্জ মডেল থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগটির বিস্তারিত অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। থানার একজন দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও অভিযুক্তদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ সমাজে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে নিরীহ ও বয়োবৃদ্ধ মানুষের ওপর এমন পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রকাশ্য দিবালোকে বসতবাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর, চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিবেশকে চরমভাবে বিঘ্নিত করে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনের প্রতি গণমানুষের আস্থা বজায় রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল অপরাধীকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন প্রধান দাবি।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ: যুবক গ্রেপ্তার

প্রতিবেদক: নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ: যুবক গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে ইফতিয়ার আহমেদ জোবায়ের (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণীর দায়ের করা সুনির্দিষ্ট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত যুবককে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারকের আদেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম।

দায়েরকৃত মামলার এজাহারের বিবরণী থেকে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী হাকিমপুর উপজেলার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে প্রায় ছয় মাস পূর্বে অভিযুক্ত জোবায়েরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে জোবায়ের তরুণীকে বিভিন্ন সময়ে আশ্বস্ত করেন যে, তাদের এই পরিণয়ে তার পরিবারের পূর্ণ সম্মতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তারা সামাজিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। যুবকের এমন আশ্বাসে তরুণী সরল বিশ্বাসে সম্পর্কের গভীরতায় জড়ান।

অভিযোগে প্রকাশ, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে জোবায়ের তার বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কৌশলে ওই তরুণীকে ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর চৌধুরীপাড়ায় তাদের নিজ বসতবাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে উপস্থিত সকলের সামনেই বিয়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ভান করা হয়। এরপর সেখানে অবস্থান ও রাতযাপনের একপর্যায়ে তরুণীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়ের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোবায়ের জোরপূর্বক তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর সকালে ভুক্তভোগী তরুণী বিষয়টি জোবায়েরের পিতা-মাতার নজরে আনেন এবং তাদের আশু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন। এ সময় জোবায়েরের অভিভাবকরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিয়ের সামাজিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করার মৌখিক আশ্বাস প্রদান করেন। এরপর জোবায়ের নিজে গিয়ে তরুণীকে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। কিন্তু বাড়ি ফিরে যাওয়ার কিছু সময় পরই যুবকের মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ওই তরুণীকে কোনো অবস্থাতেই তিনি বিয়ে করবেন না।

যুবকের এমন আকস্মিক অস্বীকৃতির কারণ জানতে চাইলে জোবায়ের উল্টো তরুণীকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিতে থাকেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও জোবায়েরের পরিবারের সদস্যরাও তাকে পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান। চরম প্রতারণা, অপমান ও সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে পড়ে ভুক্তভোগী তরুণী কোনো উপায় না দেখে অবশেষে সুবিচারের আশায় ফুলবাড়ী থানায় উপস্থিত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন।

মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই ফুলবাড়ী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত জোবায়েরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার যথাযথ পুলিশি পাহারায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, তরুণীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিয়ের প্রলোভনে তরুণীদের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্কের পর অস্বীকার করার মতো সামাজিক অপরাধ তরুণ সমাজ ও পারিবারিক নিরাপত্তাকে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সমাজে আস্থা ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে হলে এ ধরনের বিশ্বাসভঙ্গকারী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতাই পারে অসহায় নারীদের সম্মান ও অধিকার সমুন্নত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসছে আগাম শীতের আমেজ

প্রতিবেদক: নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে জেঁকে বসছে আগাম শীতের আমেজ

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে আশ্বিনের বিদায়লগ্নে আকস্মিক গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় প্রকৃতিতে আগাম শীতের পদধ্বনি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিরতিহীনভাবে আকাশ ভেঙে থেমে থেমে ঝরছে এই হালকা বৃষ্টিপাত। অঝোর ধারার বদলে থেমে থেমে চলা এই বৃষ্টি এবং তার সঙ্গে মিশে থাকা শীতল বাতাসের দোলায় গোটা জনপদে এক ধরনের স্নিগ্ধ শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকৃতির এমন অকস্মাৎ পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্বাভাবিক গতিপ্রবাহে বেশ কিছুটা স্থবিরতা ও ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই পুরো হিলি অঞ্চলের আকাশ ঘন মেঘের চাদরে ঢাকা পড়ে থাকে, যার ফলে সারাদিনেও সূর্যের সোনালী রোদের দেখা মেলেনি। মেঘাচ্ছন্ন বৈরী আবহাওয়া এবং অবিরাম জলকণার উপস্থিতির কারণে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক তাপমাত্রা লক্ষণীয় মাত্রায় নিচে নেমে গেছে। পারদ এভাবে দ্রুত কমে আসার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্পষ্ট ঠান্ডার অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারগুলোর শিশু ও বয়োবৃদ্ধ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হঠাৎ শৈত্যপ্রবাহের অনুভূতি অনেক বেশি প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। ঘরের বাইরে বের হওয়া বহু মানুষকে ইতিমধ্যে শীত নিবারণের জন্য হালকা ধরনের গরম কাপড় পরিধান করতে দেখা গেছে।

সকালের এই বৃষ্টি ও শীতল বাতাসের কারণে হিলি বাজারের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষের পদচারণা অন্যান্য সাধারণ দিনের তুলনায় বেশ সীমিত হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে কিছুটা ভাটা পড়লেও জীবিকা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি কাজে যাদের ঘরের বাইরে আসতে হয়েছে, তারা ছাতা মাথায় দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরা করছেন। সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল তুলনামূলকভাবে ধীরগতির রূপ নিয়েছে এবং পথচারীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় বাজার এলাকায় এক শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত কয়েক দিন ধরেই শেষ রাতের প্রহরে এবং প্রত্যুষে বাতাসে হালকা ঠান্ডা বা শীতের আমেজ অনুভব করা যাচ্ছিল। তবে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এবং হিমেল বাতাসের যৌথ প্রভাবে সেই শীতের অনুভূতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অগ্রহায়ণের অনেক আগেই আশ্বিনের মেঘলা দিনে এমন শীতের আগমনী বার্তা পুরো সীমান্তবর্তী জনপদের আবহে এক অন্যরকম ঋতু পরিবর্তনের দোলা এনে দিয়েছে।

কার্তিকের শুরুতেই এমন আকস্মিক বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার নিম্নগতি উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত জনপদে যেন আগাম শীতের আগমনী বার্তাকে নিশ্চিত করে তুলেছে। তবে হঠাৎ করে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় সর্দি, কাশি কিংবা ঠান্ডাজনিত নানা মৌসুমি শারীরিক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই সময়ে বিশেষ করে শিশু এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি বাড়তি পারিবারিক যত্ন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে হঠাৎ নেমে আসা এই শীতের আবহ তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কোনো ধরনের ভোগান্তি বয়ে না আনে।

হিলিতে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন: চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসি

প্রতিবেদক: নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
হিলিতে কাঁচামরিচের বাম্পার ফলন: চড়া দামে কৃষকের মুখে হাসি

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে অর্থকরী ফসল হিসেবে কাঁচামরিচের বাণিজ্যিক চাষাবাদে বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তুলনামূলকভাবে স্বল্প উৎপাদন ব্যয়, সহজ ও নির্বিঘ্ন পরিচর্যা পদ্ধতি এবং বর্তমান খোলা বাজারে আকর্ষণীয় ও স্থিতিশীল মূল্যের কারণে সনাতনী ধানসহ অন্যান্য প্রথাগত ফসলের পরিবর্তে কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে কাঁচামরিচ আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত দিকনির্দেশনায় চলতি মৌসুমে ফসলের আশাতীত বাম্পার ফলন অর্জিত হয়েছে। বাজারে কাঁচামরিচের সন্তোষজনক ও চড়া পাইকারি দর বজায় থাকায় চাষিরা অত্যন্ত প্রফুল্ল চিত্তে ফসল সংগ্রহ ও বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিনে হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া, বোয়ালদার, খাট্টামাধবপাড়া এবং আলীহাট এলাকার প্রত্যন্ত মেঠোপথ ও ফসলি মাঠগুলো ঘুরে দেখা গেছে নয়নাভিরাম ও কর্মচঞ্চল এক দৃশ্য। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ কাঁচামরিচের ক্ষেত। প্রতিটি গাছের ডালপালায় থোকায় থোকায় ঝুলছে সতেজ ও চকচকে কাঁচা মরিচ। সকালের মিষ্টি রোদ ওঠার সাথে সাথেই কৃষকদের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়; মাঠে কেউ নিপুণ হাতে গাছ থেকে মরিচ তুলছেন, আবার কেউ তা ওজন করে বস্তাবন্দী করছেন পাইকারদের কাছে হস্তান্তরের জন্য।

চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের কৃষকরা মূলত রোগবালাই প্রতিরোধী ও উচ্চফলনশীল জাত হিসেবে পরিচিত ‘মিসাইল’ জাতের মরিচ চাষে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। স্থানীয় কৃষিজীবীদের অভিমত অনুযায়ী, ধান বা অন্যান্য প্রচলিত দানাদার শস্যের আবাদে যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দামের অনিশ্চয়তার ঝুঁকি বেশি থাকে, সেখানে মরিচ চাষে ঝুঁকি অনেক কম কিন্তু মুনাফার পরিমাণ বহুগুণ বেশি। এই চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, জমিতে মাত্র একবার স্বাস্থ্যকর চারা রোপণ করলে একটানা কয়েক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে ফলন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। একই জমি থেকে বারবার মরিচ তুলে বাজারে বিক্রির এই সুযোগ কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করছে, যার ফলেই প্রতিবছরই এই অর্থকরী ফসলের চাষের পরিধি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

মাঠে কর্মরত কৃষক ইয়ানুল ইসলাম ও মাজেদুল হক সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, চলতি বছর আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন যেমন চমৎকার হয়েছে, তেমনি বাজারদরও গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয় পাইকারি বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ একশত থেকে একশত বিশ টাকা পর্যন্ত পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও আনুষঙ্গিক যাবতীয় উৎপাদন ব্যয় বাদ দেওয়ার পরও তাদের হাতে বেশ ভালো অঙ্কের নিট মুনাফা থাকছে। বাজারে এমন অনুকূল পরিবেশ ও ন্যায্যমূল্য বজায় থাকলে আগামী মৌসুমে আরও বর্ধিত জমিতে মরিচ চাষের দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন তারা।

হিলির উৎপাদিত কাঁচামরিচের গুণগত মান, অনন্য ঝাঁঝ ও সতেজতা উন্নতমানের হওয়ায় তা শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং প্রতিদিন ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকা, বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় বিভাগীয় ও জেলা শহরের পাইকারি আড়তগুলোতে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। দূরদূরান্তে পণ্য সরবরাহের এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয় চাষিদের অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি পরিবহন খাত, মরিচ তোলা, গ্রেডিং বা বাছাইকরণ এবং লোড-আনলোডের সঙ্গে জড়িত বহু প্রান্তিক দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য সৃষ্টি হয়েছে নির্ভরযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র দুই বছর আগেও এই উপজেলায় নামমাত্র দুই হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচ আবাদ করা হতো। তবে লাভজনক হওয়ায় মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে চলতি মৌসুমে সেই আবাদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট হেক্টরে, যা শতকরা হিসেবে চার গুণ বৃদ্ধির এক অনন্য রেকর্ড।

এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আরজেনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি জমিতে কৃষকরা মরিচ চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের মানসম্পন্ন বীজ নির্বাচন, সঠিক মাত্রায় সুষম সারের ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে পোকা ও রোগবালাই দমনে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আবহাওয়া অত্যন্ত সহায়ক থাকায় ফলনের মান যেমন চমৎকার হয়েছে, তেমনি কৃষকরাও তাদের কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন, যা আগামীতে এই অঞ্চলে মরিচ চাষের ব্যাপ্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ফসলের বহুমুখীকরণ ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফসল কাঁচামরিচ এক অপার সম্ভাবনাময় দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বাজারে যদি বর্তমানের মতো ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত থাকে, তবে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলে মরিচের বাণিজ্যিক আবাদ আরও নতুন মাত্রা পাবে। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় কৃষি প্রশাসনের সার্বিক তদারকি বজায় থাকলে কাঁচামরিচ চাষ কেবল কৃষকের ঘরেই সচ্ছলতা আনবে না, বরং তা জাতীয় গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে এক অনন্য ভূমিকা পালন করবে।