মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:
প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্নআশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৬উখিয়ার কৃষি কি তবে বর্জ্যের তলায় হারিয়ে যাবে?কুতুপালং বাজারে ফের উচ্ছেদ অভিযান: যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসনউখিয়ায় র‌্যাবের বড় অভিযান: ৫০ হাজার পিস ই/য়া/বা/সহ সিএনজি জব্দ ‎টেকনাফে র‌্যাবের ঝটিকা অভিযান: চাঞ্চল্যকর গণধ/র্ষ/ণ ও অপহরণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতারখেলাধুলা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে আগামীর নেতৃত্ব: এমপি মিলনশ্রীপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতশ্রীপুরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনসাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনাঈদ বোনাসের দাবিতে শ্রীপুরে শিক্ষা অফিসে দপ্তরিদের অবস্থান৬২ হাজার টাকায় কেনা বিড়াল অসুস্থ, টাকা ফেরত দিতে আইনি নোটিশশ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

শ্রীপুরে রহস্যময় সাপের কামড়ে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক।

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১০ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে রহস্যময় সাপের কামড়ে গ্রামজুড়ে আতঙ্ক।
google news আজকের বাণী এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
১১

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পেলাইদ মধ্য পাড়া এলাকায় সাপের রহস্যজনক দংশনের ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০ জনের বেশি মানুষ সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এতগুলো দংশনের ঘটনা ঘটলেও আক্রান্তদের কেউই এখনও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেননি। সবাই স্থানীয় এক কবিরাজের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁকভিত্তিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল জানান, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িতে সাপের কামড়ের ঘটনা ঘটছে। এতে তারা এখন ভয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না। তিনি বলেন, “আমরা এখন রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। বাড়ির চারপাশে সারারাত আলো জ্বালিয়ে রাখতে হয়। কখন, কোন বাসিন্দা আক্রান্ত হয়—এই ভয়ে সবাই আতঙ্কে আছে।”

আরেক বাসিন্দা সাইফুদ্দিন শেখ ফাহিম বলেন, গত সপ্তাহে তার প্রতিবেশীসহ বেশ কয়েকজনকে সাপ কামড়েছে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে কেউ না গিয়ে স্থানীয় কবিরাজের চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি জানান, সাপ আতঙ্কে এলাকার শিশুরাও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অভিভাবকরাও সন্তানদের একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না।

সাপের কামড়ে আহত স্থানীয় যুবক ইমরান বলেন, রাতে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ করে পায়ে ব্যথা অনুভব করেন। পরে রক্ত বের হতে দেখে বুঝতে পারেন সাপ কামড়েছে। তিনি জানান, “আমি সাপটাকে চোখে দেখিনি। ভয় পেয়ে পরিবার দ্রুত কবিরাজের কাছে নিয়ে যায়। এখন কিছুটা ভালো লাগছে, তবে পা ফুলে আছে।”

স্থানীয় কবিরাজ মো. আব্দুল মালেক দাবি করেন, গত এক সপ্তাহে তার কাছে ১৫–২০ জন সাপের দংশনের রোগী এসেছে। তার ভাষ্য, “একজন রোগীও সাপটিকে চোখে দেখেনি। আমি ঝাড়ফুক দিয়ে চিকিৎসা করছি। অনেকেই ভালো হয়েছে।”

গ্রামবাসীরা মনে করছেন, আক্রান্তদের বেশিরভাগই সাপ দেখতে পাননি, অর্থাৎ ঘটনাগুলো অদৃশ্যভাবে ঘটছে। এতে বিষয়টি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে, যা এলাকাবাসীর আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে গুজবও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।

এদিকে স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এলাকায় হয়তো ঝোপঝাড় বা ফসলি জমিতে লুকিয়ে থাকা বিষহীন দংশনকারী সাপের আধিক্য থাকতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে পোকামাকড় বা কাঁটার আঘাতও সাপের কামড় বলে ভুল হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি।

শ্রীপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, “সাপ সাধারণত নিরীহ প্রাণী। সুযোগ পেলেই তারা মানুষের কাছ থেকে পালিয়ে যায়। সাপ কেবল তখনই কামড়ায়, যখন তারা নিজেদের হুমকির মুখে মনে করে।” তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ সাপই বিষহীন হওয়ায় আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় বন বিভাগকে জানালে তারা দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে অবমুক্ত করতে পারবেন।

তিনি জানান, সাপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। বিশেষ করে ইঁদুর ও অন্যান্য ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণে সাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাপ দেখলে মারার চেষ্টা না করে বন বিভাগকে জানানো উচিত।

এদিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বরমী এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে কোনো সাপের দংশনের রোগী আসেনি। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি দেখেছি। কিন্তু এদের বেশিরভাগই আসলে সাপের কামড় নয়। এসব নিয়ে এলাকায় ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “যদি কাউকে সত্যিকারের বিষধর সাপ কামড়ায়, তাকে অবশ্যই হাসপাতালে এনে অ্যান্টিভেনম দিতে হবে। কবিরাজি চিকিৎসায় বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। তাই যেকোনো দংশনের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এলাকায় সাপ ধরার কার্যক্রম চালু করা, সচেতনতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। নইলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন

বগুড়া, ধুনট: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন

প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন। বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ি গ্রামের যমুনা নদীর বাঁধের নিচেই ছোট একটি জরাজীর্ণ খুপড়ি ঘরে বসবাস করেন সুফিয়া বেগম।

দুই মাস আগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ, তাঁর স্বামী মারা যান। মাথার ওপর থেকে ছাদ সরে যাওয়ার পর এখন এই মা ও তাঁর পাঁচ কন্যাসন্তানের একমাত্র আশ্রয় এই জরাজীর্ণ ঘরটি। এই ঘরও আর সুরক্ষা দিতে পারছে ।

সামান্য বৃষ্টি নামলেই সুফিয়া বেগমের চোখে ঘুম আসে না। ঘরের টিনগুলো মরিচায় জীর্ণ, ফুটো দিয়ে অঝোরে ঝরে পড়ে বৃষ্টির পানি। ঝড়ের রাতে সেই নড়বড়ে ঘরে সারারাত জেগে থাকেন তিনি। বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায় তাঁদের সামান্য বিছানাপত্র, হাঁড়ি-পাতিল আর কষ্টের উপার্জনের শেষ সম্বলটুকু। যে ঘরে থাকার কথা ছিল নিরাপদ ছায়ায়, সেই ঘরেই এখন তাদের ভিজে একাকার হতে হয়।

স্বামীকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ক্ষুধার জ্বালা তাঁদের । সংসারে দেখার মতো কেউ নেই, উপার্জনের কোনো উৎস নেই। পাঁচ মেয়ের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এই অসহায় মা। কারো কাছে হাত পাততে লজ্জা, আবার না খেয়ে থাকাও অসম্ভব। অভাব আর অনাদরে বেড়ে ওঠা মেয়েগুলোর দিকে তাকালে বুক ফেটে কান্না আসে সুফিয়া বেগমের। তিনি কি এই সমাজে একেবারেই একা?

যমুনার পাড়ের এই শিমুলবাড়িতে সুফিয়া বেগমের ঘরটিতে এখন শুধু হাহাকার আর বৃষ্টির শব্দ। ঝড়ের রাতের সেই বৃষ্টির পানি আজ আর কেবল টিনের চালে পড়ছে না, পড়ছে এই অসহায় পরিবারটির অবশিষ্ট স্বপ্নের ওপর।
এই চরম দুর্দশাগ্রস্ত মানুষটির দিকে কি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৬

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
আশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৬

আশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৬ ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে পৃথক পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৬ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)।

মঙ্গলবার (৫ মে) ডিবি (উত্তর) সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার বুড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ১০০ পুরিয়া হেরোইন ও ২১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। একইদিন রাতে কুটুরিয়া এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও তিনজনকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

অন্যদিকে, সাভার থানার বক্তারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উখিয়ার কৃষি কি তবে বর্জ্যের তলায় হারিয়ে যাবে?

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
উখিয়ার কৃষি কি তবে বর্জ্যের তলায় হারিয়ে যাবে?

উখিয়ার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখন আর সবুজ নেই। বড় কোনো ঘূর্ণিঝড় বা মহাপ্লাবন নয়, স্রেফ স্বাভাবিক বৃষ্টিতেই পাহাড় থেকে নেমে আসা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য গিলে খাচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের স্বপ্ন। মাঠজুড়ে পলিথিন, চিপসের প্যাকেট আর পচা আবর্জনা। কালচে পানি আর তীব্র দুর্গন্ধে বিষিয়ে উঠছে বাতাস। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্লাস্টিকের আস্তরণ আর রাসায়নিক মিশ্রিত নোংরা পানিতে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে গেছে—কৃষক ভাষায় মাটি এখন ‘মৃত’।

‎রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন “প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার এলাকা পরিদর্শন করছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। শুধু দেখতে আসা আর আশ্বাস দেওয়া দিয়ে তো কৃষকের পেট চলবে না। আমাদের প্রশ্ন—বাঁচানোর স্থায়ী উদ্যোগ কোথায়?”

‎ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি পালংখালীর সহ-সভাপতি এবং হোস্ট কমিউনিটি প্রতিনিধি এস. এম. জি মুফিজ উদ্দিন জানান, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও ও আইএনজিও (বিশেষ করে NRC, ওয়াশ প্রজেক্ট, সাইট ম্যানেজমেন্ট) এবং সিআইসি (CiC) অফিসে বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এনজিওগুলো ক্যাম্পের ড্রেনগুলো সরাসরি স্থানীয়দের জমি বরাবর তৈরি করে রেখেছে। ফলে ভারী বৃষ্টি হলেই ক্যাম্পের জমাটবদ্ধ প্লাস্টিক ও বর্জ্য এসে কৃষকের সাজানো ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে।”
‎তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর জমি থেকে প্লাস্টিক ও ময়লা সরাতে গিয়ে কৃষকদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি—ক্যাম্পের ড্রেনগুলো সরাসরি জমিতে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট খালের সাথে সংযুক্ত করে সুপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

‎উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা জানান: ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের সঠিক চিত্র তুলে আনতে সরেজমিন পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। বর্জ্য প্রবাহ ঠেকাতে স্থায়ী ‘গাইড ওয়াল’ নির্মাণ এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির প্রক্রিয়া চলমান। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

‎উখিয়ার এই করুণ পরিণতির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:
‎ক্যাম্পে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সংরক্ষণে ঘাটতি।
‎বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথটি সরাসরি কৃষিজমির সাথে যুক্ত।
‎উঁচু স্থান থেকে বর্জ্য সহজেই ঢালের সাথে লোকালয়ে চলে আসা।

‎স্থানীয় কৃষকদের জীবন এখন অনিশ্চয়তায় ঘেরা। প্রতিবার চাষের আগে জমি থেকে টন টন প্লাস্টিক সরাতে গিয়ে তাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। জমি পরিষ্কারের বাড়তি মজুরি। বিষাক্ত পানির কারণে ফসলের মান ও পরিমাণ হ্রাস। অনেকেই এখন পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিয়ে জীবিকার অন্য পথ খুঁজছেন।

‎যদি এখনই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে একটি আধুনিক ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে উখিয়ার ঐতিহ্যবাহী কৃষি ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। স্থানীয়দের দাবি—সাময়িক কোনো লোক দেখানো পরিষ্কার অভিযান নয়, বরং একটি টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরাসরি ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।