মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:
সামান্য বৃষ্টিতেই শেরপুরের খামারকান্দি সড়কে জলজট, দুর্ভোগে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাধুনটে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধনউখিয়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে টমটম থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই, পলাতক ২ কারবারিপ্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্নআশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৬উখিয়ার কৃষি কি তবে বর্জ্যের তলায় হারিয়ে যাবে?কুতুপালং বাজারে ফের উচ্ছেদ অভিযান: যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসনউখিয়ায় র‌্যাবের বড় অভিযান: ৫০ হাজার পিস ই/য়া/বা/সহ সিএনজি জব্দ ‎টেকনাফে র‌্যাবের ঝটিকা অভিযান: চাঞ্চল্যকর গণধ/র্ষ/ণ ও অপহরণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতারখেলাধুলা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে আগামীর নেতৃত্ব: এমপি মিলনশ্রীপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতশ্রীপুরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনসাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনা

ঘুরে ফিরে আবারও শ্রীপুরে পৌর নির্বাহী বাদল

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
ঘুরে ফিরে আবারও শ্রীপুরে পৌর নির্বাহী বাদল
google news আজকের বাণী এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
১৩

২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীপুর পৌরসভা শুরু থেকেই অনিয়ম–দুর্নীতির নানা অভিযোগে দেশজুড়ে আলোচিত। দীর্ঘদিন মেয়রের সহযোগিতায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠে দুর্নীতির অভিযোগ। তবে মেয়র বরখাস্ত হওয়ার পর প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ায় দীর্ঘ দুই যুগ পর পৌরসভায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে।

এদিকে মাত্র ছয় মাস আগে যোগদান করা বর্তমান পৌর নির্বাহী সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও তাকে সরিয়ে, নানা অনিয়মে অভিযুক্ত পৌর নির্বাহী বদরুজ্জামান বাদলকে তৃতীয়বারের মতো শ্রীপুরে পদায়ন করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পূর্বে শ্রীপুরে দায়িত্ব পালনকালে বাদলের বিরুদ্ধে পৌর তহবিল তছরুপসহ নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ ছিল।

গত ১৬ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর -১ শাখার জারি করা আদেশে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা থেকে তাকে শ্রীপুর পৌরসভায় যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে তিনি প্রথম দফায় ২০০৪ সাল পর্যন্ত দুই বছর , দ্বিতীয় দফায় -২০১৯ পর্যন্ত তিন বছর শ্রীপুরে দায়িত্ব পালন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী জানান, “বিতর্কিত এই কর্মকর্তা ২০১৬-১৯ মেয়াদে তৎকালীন মেয়রের ছত্রছায়ায় একচ্ছত্র ক্ষমতায় ছিলেন। রাস্তা-ড্রেন নির্মাণ না করে মেয়রের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকা বাগিয়ে নিয়েছেন। জঙ্গল পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও ময়লা অপসারণ খাতে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে তার আমলে। কর্মচারী জহিরের মাধ্যমে এসব অনিয়ম করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন সাধারণ মানুষ অভিযোগ করার সাহস পায়নি।”

স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “২০১৭ সালে অনিয়ম ধরা পড়লে ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজ উদ্দিন প্রতিবাদ করেন। তখন কাউন্সিলরকে গালাগাল ও লাঞ্চনার শিকার হতে হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে অভিযোগও হয়েছিল। এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বাদলকে আবার এখানে আনা হলো কেন? দেশে কি আর কেউ নেই?”

আরেক বাসিন্দা রাশেদ বলেন, “মশার যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ঠ। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও বাদলের সময় কোনও মশক নিধন কার্যক্রম দেখা যায়নি।” পুরো টাকাই সে আত্নসাত করেছিল।

তৃতীয়বারের মতো পদায়ন প্রসঙ্গে বদরুজ্জামান বাদল মুঠোফোনে বলেন, “এই পদের জন্য অনেক ঠেলাঠেলি হয়। শ্রীপুরে যিনি ছিলেন তাকেও ঠেলা দিয়ে এসেছি। আমাকেও ঠেলার জন্য আরও লোক প্রস্তুত আছে। শ্রীপুর আমার কাছে—অবসর নেওয়ার সময় পাওনা অর্থ আদায়ও সহজ।”

তবে আগের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “এসব অভিযোগ সত্য নয়। সেসময় নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র, আমি একা কিছু করতে পারি না।”

এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ বলেন, “এর আগে কী হয়েছে বলতে পারব না। আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে কোনও অনিয়মের সুযোগ নেই। আর পৌর নির্বাহীর পদায়ন মন্ত্রণালয়ের বিষয়—আমি সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”

সামান্য বৃষ্টিতেই শেরপুরের খামারকান্দি সড়কে জলজট, দুর্ভোগে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর (বগুড়া) প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সামান্য বৃষ্টিতেই শেরপুরের খামারকান্দি সড়কে জলজট, দুর্ভোগে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের প্রধান সড়কে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। খামারকান্দি বাজার থেকে ইউনিয়ন কার্যালয় সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনজীবনকে কার্যত স্থবির করে দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কের পাশেই অবস্থিত একটি মাদ্রাসা ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন এই তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীকে কাদা ও নোংরা পানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায় এবং তারা দুর্ঘটনার শিকার হয়, যা অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, প্রবীণ ব্যক্তি, শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের চলাচলেও এই সড়কটি এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বেহাল সড়ক ও কাদা-পানির কারণে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

অত্র এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যা বিরাজমান থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বা স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সড়কের বেহাল দশা এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবেই সামান্য বৃষ্টিতে এই অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খামারকান্দি বাজার এলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রাণকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এখানকার প্রধান সড়কটির উন্নয়ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

এমতাবস্থায়, এই অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং শেরপুর উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের এই কষ্ট লাঘব হবে।

খামারকান্দি সড়কের এই জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে।

ধুনটে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন

নাজমুল হাসান নাজির, স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
ধুনটে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন

বগুড়ার ধুনটে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ধুনট খাদ্য গুদাম চত্বরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মহতি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এবং সরকারি খাদ্য মজুদ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে।

চলতি বোরো মৌসুমে ধুনট উপজেলা থেকে মোট ১৬১৪ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় সরকারি এই সংগ্রহ অভিযান কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। সরকারের নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি ধানের ক্রয়মূল্য ৩৬ টাকা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী। তিনি ফিতা কেটে ও আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহের মধ্য দিয়ে অভিযানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত কৃষক ও সুধীজনদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ধান সংগ্রহ সম্পন্ন করা হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

অনুষ্ঠানে খাদ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন ধুনটের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন, বগুড়া জেলা জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ও যুথী অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী হায়দার আলী হিন্দোল এবং বগুড়া জেলা ও ধুনট উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ধুনট উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, ধুনট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আলম হাসান, খাদ্য পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম এবং ধুনট খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) ছানোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানের শেষে বক্তারা সরকারি এই ধান সংগ্রহ অভিযান সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

বগুড়ার ধুনটে ১৬১৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শুরু হওয়া এই অভিযান কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে এই প্রক্রিয়া সফল হবে বলে বিশ্বাস করে সচেতন মহল।

উখিয়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে টমটম থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই, পলাতক ২ কারবারি

নিউজ ডেস্ক, উখিয়া প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে টমটম থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই, পলাতক ২ কারবারি

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে একটি ব্যাটারিচালিত টমটম (অটো-রিকশা) থেকে বিশাল অংকের ইয়াবার চালান ছিনতাইয়ের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার সময় পালংখালী ইউনিয়নের ভাদিতলি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। মাদক পাচারের কৌশলী এই ঘটনায় দুই মাদক কারবারি প্রায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে দ্রুত গা-ঢাকা দিয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ভাদিতলি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মার্বেল এবং একই এলাকার ছৈয়দুল আমিন, বশর ও জুবায়ের। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ইয়াবার একটি বড় চালান অটো-রিকশা যোগে পাচার করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন ওই টমটম গাড়িটি ভাদিতলি এলাকায় থামিয়ে দফায় দফায় দুই বার তল্লাশি চালায়। তবে প্রশাসনের এই তল্লাশি প্রক্রিয়ার মধ্যেই কৌশলে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মার্বেল ও ছৈয়দুল আমিন। তারা অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে যানটি থেকে ইয়াবা ভর্তি ব্যাগটি ছিনতাই করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, ওই ব্যাগে আনুমানিক ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ছিল। ইয়াবাগুলো হস্তগত করার পরপরই অভিযুক্তরা দ্রুত এলাকা থেকে সটকে পড়ে।

প্রকাশ্য দিবালোকে এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এত বড় একটি ইয়াবার চালান ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতির মধ্যেও কারবারিরা কীভাবে ইয়াবা নিয়ে চম্পট দিল, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপরতা শুরু করেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পলাতক আসামিদের কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মাদক নির্মূলে সরকারের কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে এবং পলাতক মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে সাড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মাদকের এই দৌরাত্ম্য বন্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় প্রয়োজন। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করা না গেলে মাদক চোরাচালানের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।