বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:
দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন ইউপি সচিবউখিয়ায় আরসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে ‘হালিম বাহিনী’র প্রধান নি/ হ/ ত, আহত ২সামান্য বৃষ্টিতেই শেরপুরের খামারকান্দি সড়কে জলজট, দুর্ভোগে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাধুনটে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধনউখিয়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে টমটম থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই, পলাতক ২ কারবারিপ্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্নআশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৬উখিয়ার কৃষি কি তবে বর্জ্যের তলায় হারিয়ে যাবে?কুতুপালং বাজারে ফের উচ্ছেদ অভিযান: যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসনউখিয়ায় র‌্যাবের বড় অভিযান: ৫০ হাজার পিস ই/য়া/বা/সহ সিএনজি জব্দ ‎টেকনাফে র‌্যাবের ঝটিকা অভিযান: চাঞ্চল্যকর গণধ/র্ষ/ণ ও অপহরণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতারখেলাধুলা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে আগামীর নেতৃত্ব: এমপি মিলনশ্রীপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতশ্রীপুরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনসাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়

প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন

বগুড়া, ধুনট: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন
google news আজকের বাণী এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
৫৬

প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন। বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ি গ্রামের যমুনা নদীর বাঁধের নিচেই ছোট একটি জরাজীর্ণ খুপড়ি ঘরে বসবাস করেন সুফিয়া বেগম।

দুই মাস আগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ, তাঁর স্বামী মারা যান। মাথার ওপর থেকে ছাদ সরে যাওয়ার পর এখন এই মা ও তাঁর পাঁচ কন্যাসন্তানের একমাত্র আশ্রয় এই জরাজীর্ণ ঘরটি। এই ঘরও আর সুরক্ষা দিতে পারছে ।

সামান্য বৃষ্টি নামলেই সুফিয়া বেগমের চোখে ঘুম আসে না। ঘরের টিনগুলো মরিচায় জীর্ণ, ফুটো দিয়ে অঝোরে ঝরে পড়ে বৃষ্টির পানি। ঝড়ের রাতে সেই নড়বড়ে ঘরে সারারাত জেগে থাকেন তিনি। বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায় তাঁদের সামান্য বিছানাপত্র, হাঁড়ি-পাতিল আর কষ্টের উপার্জনের শেষ সম্বলটুকু। যে ঘরে থাকার কথা ছিল নিরাপদ ছায়ায়, সেই ঘরেই এখন তাদের ভিজে একাকার হতে হয়।

স্বামীকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ক্ষুধার জ্বালা তাঁদের । সংসারে দেখার মতো কেউ নেই, উপার্জনের কোনো উৎস নেই। পাঁচ মেয়ের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এই অসহায় মা। কারো কাছে হাত পাততে লজ্জা, আবার না খেয়ে থাকাও অসম্ভব। অভাব আর অনাদরে বেড়ে ওঠা মেয়েগুলোর দিকে তাকালে বুক ফেটে কান্না আসে সুফিয়া বেগমের। তিনি কি এই সমাজে একেবারেই একা?

যমুনার পাড়ের এই শিমুলবাড়িতে সুফিয়া বেগমের ঘরটিতে এখন শুধু হাহাকার আর বৃষ্টির শব্দ। ঝড়ের রাতের সেই বৃষ্টির পানি আজ আর কেবল টিনের চালে পড়ছে না, পড়ছে এই অসহায় পরিবারটির অবশিষ্ট স্বপ্নের ওপর।
এই চরম দুর্দশাগ্রস্ত মানুষটির দিকে কি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায় না।

দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন ইউপি সচিব

মোঃ নাজমুল হাসান নাজির প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন ইউপি সচিব

দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মীর আব্দুল বারেক

চাকরি করেন ১৪তম গ্রেডের একজন সাধারণ ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে। কিন্তু মাত্র এক দশকের ব্যবধানে তার জীবনযাত্রায় এসেছে রাজকীয় পরিবর্তন। বহুতল ভবন, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বিপুল পরিমাণ জমির মালিক হয়ে এখন তিনি শতকোটি টাকার সম্পদের অধিপতি। সাভারের তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন ও ধামরাই কুল্লা পরিষদের সাবেক সচিব এবং বর্তমানে সাভার উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কর্মরত সচিব মীর আব্দুল বারেকের এই অবিশ্বাস্য উত্থান এখন স্থানীয়দের কাছে বিস্ময় ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, মীর আব্দুল বারেক সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। রাজনৈতিক এই ছত্রছায়াকে পুঁজি করেই তিনি গত ১০ বছরে মেতেছিলেন সীমাহীন দুর্নীতিতে। তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদে থাকাকালীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, টিআর-কাবিখা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এক সময়কার সাধারণ এই কর্মচারী এখন বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক, যা তার বৈধ আয়ের সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের জোরপুল এলাকায় মীর আব্দুল বারেকের নামে একটি বিশাল পাঁচতলা ভবন রয়েছে। এছাড়া একই এলাকায় নামে-বেনামে অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দামি জমি ক্রয় করেছেন তিনি। তার সম্পদের বিস্তার শুধু সাভারেই সীমাবদ্ধ নয়; রাজধানীর কল্যাণপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় তার একাধিক ফ্ল্যাট ও বিলাসবহুল বাড়ি থাকার তথ্যও লোকমুখে ঘুরছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—একজন ১৪তম গ্রেডের কর্মচারী হয়ে কোন জাদুর কাঠিতে তিনি এত অল্প সময়ে শতকোটি টাকার মালিক হলেন?

মীর আব্দুল বারেকের এই দাপটের নেপথ্যে রয়েছে তার প্রাতিষ্ঠানিক পদবীও। তিনি ইউপি সচিবদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সেক্রেটারি সমিতি’ (বাপসা)-এর ঢাকা জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই পদের প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। এই পদকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন বদলি বাণিজ্য ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট অনেকের দাবি।

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বলয়ে থেকে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় স্থানীয়দের একাংশ তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের কারণে সেগুলো হিমাগারে চলে গেছে। কোনো কার্যকর তদন্ত না হওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার এই দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মীর আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব দুর্নীতির অভিযোগ, অবৈধ সম্পদের পাহাড় এবং তার পেছনের প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক নিয়ে ইতোমধ্যে বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তার নামে-বেনামে থাকা সম্পত্তির দলিল, ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ এবং প্রশাসনিক প্রভাবের নেপথ্য কাহিনী নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে দৈনিক নববাণী। খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্বে তার বিপুল সম্পদের সুনির্দিষ্ট উৎস ও প্রামাণ্য দলিল সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।

সরকারি কর্মচারী হয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার এই প্রবণতা আইনের শাসনের পরিপন্থী। মীর আব্দুল বারেকের মতো ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজে বের করে তাদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপই পারে এমন দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে।

উখিয়ায় আরসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে ‘হালিম বাহিনী’র প্রধান নি/ হ/ ত, আহত ২

মোঃ হারুন অর রশিদ উখিয়া প্রতিনিধি, কক্সবাজার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় আরসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে ‘হালিম বাহিনী’র প্রধান নি/ হ/ ত, আহত ২

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে আবদুল হালিম (৪৫) নামে এক রোহিঙ্গা নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি ক্যাম্পে ‘হালিম বাহিনী’ ও এআরও গ্রুপের প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই ঘটনায় আরও দুই রোহিঙ্গা সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

‎মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি ব্লক সংলগ্ন তরজার ব্রিজ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

‎নিহত আবদুল হালিম ৭ নম্বর ক্যাম্পের এফ-৬ ব্লকের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন— একই ক্যাম্পের এফ-৫ ব্লকের মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৫) ও মোহাম্মদ নুর (৩৪)।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ শেডে ফিরছিলেন আবদুল হালিম ও তার সহযোগীরা। তারা তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

‎পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে কুতুপালং এমএসএফ (MSF) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আবদুল হালিমের মৃত্যু হয়। আহত দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

‎ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের দাবি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা (ARSA) এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। নিহত হালিম ক্যাম্পে আরসা বিরোধী অবস্থান ও নিজস্ব সশস্ত্র গোষ্ঠী পরিচালনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিশানায় ছিলেন।

‎১৪ এপিবিএন-এর অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই এপিবিএন-এর একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চলছে।

‎নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় উখিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সামান্য বৃষ্টিতেই শেরপুরের খামারকান্দি সড়কে জলজট, দুর্ভোগে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, শেরপুর (বগুড়া) প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সামান্য বৃষ্টিতেই শেরপুরের খামারকান্দি সড়কে জলজট, দুর্ভোগে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের প্রধান সড়কে সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। খামারকান্দি বাজার থেকে ইউনিয়ন কার্যালয় সংলগ্ন এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এখন এলাকাবাসী ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে, যা জনজীবনকে কার্যত স্থবির করে দিচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কের পাশেই অবস্থিত একটি মাদ্রাসা ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন এই তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীকে কাদা ও নোংরা পানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায় এবং তারা দুর্ঘটনার শিকার হয়, যা অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, প্রবীণ ব্যক্তি, শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের চলাচলেও এই সড়কটি এখন বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বেহাল সড়ক ও কাদা-পানির কারণে চরম প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

অত্র এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম জানান, দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যা বিরাজমান থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বা স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সড়কের বেহাল দশা এবং অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবেই সামান্য বৃষ্টিতে এই অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খামারকান্দি বাজার এলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রাণকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও এখানকার প্রধান সড়কটির উন্নয়ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।

এমতাবস্থায়, এই অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং শেরপুর উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের এই কষ্ট লাঘব হবে।

খামারকান্দি সড়কের এই জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে।