Views: 4
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কেওক্রাডং পাহাড় ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ুদ ত্রিপুরা (১৬) নামে এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। গত ১ মার্চ রবিবার পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করে ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়। আহত কিশোর দায়ুদ ত্রিপুরা রুমা সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বেরশেবা মিশন থানা পাড়ার তিমথী ত্রিপুরা ও ছায়াতি ত্রিপুরার পুত্র। বর্তমানে সে সালেম পাড়া এলাকায় বসবাস করলেও তার স্থায়ী নিবাস রুমা সদরেই। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় পাহাড়ী জনপদে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সালেম পাড়ার একদল তরুণ-তরুণীর সাথে একটি যৌথ ভ্রমণ দলে অংশ নিয়ে কেওক্রাডং পাহাড়ে গিয়েছিল দায়ুদ। দিনভর আনন্দ-উল্লাস শেষে ফেরার পথে হারমন পাড়ার কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ি ঢালু রাস্তায় চলন্ত বি-৭০ (ল্যান্ড ক্রুজার বা চান্দের গাড়ি) থেকে অসতর্কতাবশত দায়ুদ ছিটকে নিচে পড়ে যায়। গাড়ির গতিবেগ এবং পাহাড়ের বন্ধুর ভূ-প্রকৃতির কারণে সে সরাসরি পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড আঘাত পায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করতে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনার সাথে সাথেই তাকে উদ্ধার করে রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার অবস্থার গুরুত্ব অনুধাবন করেন। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত থাকায় সিটি স্ক্যানসহ উন্নত রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে দ্রুত বান্দরবান সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়। বান্দরবান সদর হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, দায়ুদ ত্রিপুরার মাথায় রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং তার মুখের চোয়ালের একটি হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে মাথার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই কিশোরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাহাড়ের উঁচু-নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় পর্যটক ও স্থানীয়দের যাতায়াতে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। দায়ুদ ত্রিপুরার বাবা-মা ও স্বজনরা তার জীবন বাঁচাতে এবং দ্রুত আরোগ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট দোয়া ও প্রার্থনা কামনা করেছেন। আহত কিশোরের পরিবারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সমাজসেবীরাও সাহায্যের হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পাহাড় ভ্রমণের মতো আনন্দদায়ক সফরের এমন করুণ সমাপ্তি স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মাঝেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পাহাড়ি পথে ভ্রমণে নিরাপত্তা ও সতর্কতা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। দায়ুদ ত্রিপুরার এই দুর্ঘটনা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে সামান্য অসতর্কতা বড় ধরণের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আমরা তার দ্রুত আরোগ্য ও সফল অস্ত্রোপচার কামনা করি।