রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন

নতুন সরকারের আবাসন প্রস্তুতি সম্পন্ন; প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৬৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে বড় তথ্য দিলেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান
সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে নতুন মন্ত্রীদের বাসভবন ও প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের বক্তব্যের একটি দৃশ্য।

Views: 10

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের আবাসন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, নতুন প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় বা পছন্দ অনুযায়ী তাঁর জন্য নির্ধারিত বাসভবন চূড়ান্ত করা হবে। সরকার প্রধানের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের থাকার জন্য এরই মধ্যে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানান, নতুন মন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় মোট ৩৭টি বাড়ি পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই আবাসনগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন:

মিন্টো রোড ও বেইলি রোড: মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত এই দুই এলাকায় অধিকাংশ বাড়ি সংস্কার করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গুলশান ও ধানমন্ডি: মন্ত্রীদের পদমর্যাদা অনুযায়ী এই দুই এলাকায়ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বাসভবন প্রস্তুত আছে।

এছাড়াও তিনি নিশ্চিত করেন যে, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের জন্য নির্ধারিত বাসভবনগুলোও ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টার বর্তমান কার্যালয় ও বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত ‘যমুনা’ও সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আবাসন সংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের খবরও জানান গণপূর্ত উপদেষ্টা। তিনি জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণিকে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রশাসনের এই শীর্ষ পদে পরিবর্তনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপদেষ্টা আরও জানান, নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের পর যেন দ্রুততম সময়ে তাঁরা নিজ নিজ বাসভবনে উঠতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করছে। বাসভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজও শেষ পর্যায়ে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই সেখানে প্রয়োজনীয় বিশেষ নিরাপত্তা বলয় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সেটআপ তৈরি করা হবে।

আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারিত রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি পরিচ্ছন্ন ও গতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই আবাসন ও পদায়ন সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কে দায়িত্ব নিচ্ছেন এবং তিনি কোন ভবনকে তাঁর সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নেন, তা এখন দেখার বিষয়। সরকারের এই প্রস্তুতি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update