Views: 1
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দমনে ফের বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরং বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল) দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করা হয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইউনিফর্ম পরিহিত একজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করতে সক্ষম হয়েছে সেনা সদস্যরা।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এদিন বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে সেনাবাহিনী খবর পায় যে রোয়াংছড়ির মুরং বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল) এর একটি সশস্ত্র দল অবৈধভাবে স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দিগ্বিদিক পালানোর চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি বর্ষণ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জানমালের নিরাপত্তায় সেনা টহল দলও পাল্টা গুলি চালিয়ে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে।
গোলাগুলির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা নিকটস্থ একটি স্কুল ঘরে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালায়। সেনাবাহিনীর প্রবল চাপের মুখে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং গহীন অরণ্যে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে হ্লামংনু মার্মা নামক জেএসএস (মূল) এর একজন সশস্ত্র সদস্যকে ইউনিফর্ম পরিহিত এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর চিকিৎসার জন্য পুলিশের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে ১টি অত্যাধুনিক সাবমেশিনগান (SMG), ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি অ্যামোনিশন, ১৪ রাউন্ড পিস্তলের অ্যামোনিশন, ৫ রাউন্ড ব্লাঙ্ক অ্যামোনিশন, ২টি অস্ত্রের ম্যাগাজিন এবং সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। এই উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাহাড়ের শান্ত পরিস্থিতি অশান্ত করার উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। পাহাড়ে শান্তি বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এমন সশস্ত্র দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
বান্দরবানের এই অভিযান পাহাড়ের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্য একটি কড়া বার্তা। সেনাবাহিনীর এই বীরত্বপূর্ণ অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধারের ফলে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পাহাড়কে সন্ত্রাসমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই জিরো টলারেন্স নীতি ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।