রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন

এক কলস পানির জন্য যুদ্ধ: ঝিরির দূষিত পানিই ভরসা
মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: / ৪৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ১২ মাইল ওয়াই জংশন বাজার এলাকার ঝিরি থেকে নারীদের পানি সংগ্রহের দৃশ্য।
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে ১২ মাইল ওয়াই জংশন বাজার এলাকার ঝিরি থেকে নারীদের পানি সংগ্রহের দৃশ্য।

Views: 9

বান্দরবান জেলার দুর্গম রোয়াংছড়ি উপজেলার বেতছড়া ১২ মাইল ওয়াই জংশন বাজার এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় নিরাপদ পানির জন্য হাহাকার করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও বাসিন্দারা। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই পানির প্রধান উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকায় পানির জন্য এক অঘোষিত যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে তদন্তকালে দেখা গেছে, দুর্গম এই পাহাড়ী জনপদের ঝিরি-নালাগুলো প্রায় পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। বাজার ও এর আশেপাশের বসতিগুলোতে বসবাসরত মানুষেরা পানির জন্য প্রতিদিন ভোররাত থেকেই ঝিরির পাড়ে ভিড় জমান। নারী-পুরুষ, বিশেষ করে গৃহিণীরা কলস ও বালতি হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে সামান্য পরিমাণ পানি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। পানির এই দুষ্প্রাপ্যতা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। ঝিরিতে পানির স্বল্পতা থাকলেও মানুষের ভিড় বেশি হওয়ায় পানি ঘোলাটে ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে তারা যে ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করছেন, তা অত্যন্ত দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর। একই ঝিরিতে অনেকে গোসল করা এবং কাপড় ধোয়ার কাজ সম্পন্ন করায় পানিতে সাবানের ফেনা ও ময়লা জমে থাকে। বাধ্য হয়ে এই ঘোলাটে ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি পান করার ফলে এলাকায় ডায়রিয়া, আমাশয় এবং কলেরার মতো পানিবাহিত রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মাঝে স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা স্থানীয় সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।

এই সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায়ও। বাজারের অদূরে অবস্থিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পানির অভাবে চরম ভোগান্তিতে ভুগছে। বিদ্যালয়ে পানির কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝিরির দূষিত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। বাজারের ব্যবসায়ীদের মতে, পানির সংকট নিরসনে দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই বাজার এলাকার জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

বর্তমান বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সাংখাম ম্রো এই সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ওয়াই জংশন বাজার এলাকায় সুপেয় পানির কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। ঝিরির পানিই একমাত্র ভরসা হলেও এখন তা মৃতপ্রায়। তিনি দ্রুত গভীর নলকূপ বা বিকল্প পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। নিরাপদ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার হওয়া সত্ত্বেও দুর্গম এই এলাকার মানুষ সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পাহাড়ী এলাকায় সুপেয় পানির অভাব একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলেও ওয়াই জংশন বাজারের পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন করা না হলে এই জনপদের মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update