Views: 20
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের প্রবেশদ্বার সুয়ালক এলাকায় পর্যটকবাহী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আজ রবিবার (২২ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের সুয়ালক কিউবি রেস্টুরেন্টের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সৌদিয়া পরিবহনের ওই বাসটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ জন পর্যটক ছিলেন বলে জানা গেছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় অন্তত ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পর্যটকবাহী বাসটি বান্দরবান শহরে প্রবেশের মুখে সুয়ালক এলাকায় পৌঁছালে এই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। দুর্ঘটনার আকস্মিকতায় বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের গগনবিদারী চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। সংবাদ পাওয়ার পরপরই বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। খাদের গভীরতা ও বাসের অবস্থান বিবেচনায় উদ্ধার কাজ পরিচালনা করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন— ঢাকা মিরপুরের পল্লব দাশ (২৮), পুরান ঢাকার রিয়াদ (২৫), প্রিতম দাশ (২০), চিরঞ্জিৎ সেন (২৭), রিমন দাশ (২৭), আলামিন (২৬), কিশোরগঞ্জের শিফাত মাহমুদ (২৬), খিলক্ষেতের সোহেল (৩৮) ও তার স্ত্রী ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস (৩২), মোহাম্মদপুরের নাফি রেজওয়ান (৩৮) এবং বিক্রমপুরের সৌরভ মন্ডল (৩৮)। বান্দরবান সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার ধীমান চৌধুরী জানিয়েছেন, ভোর ৬টার দিকে প্রায় ২০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের মধ্যে অধিকাংশ প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ দায়িত্বে রিলিজ নিয়ে চলে গেছেন।
বাসে থাকা পর্যটক উৎস পাল চালকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত চালক সতর্ক থাকলেও এরপর থেকেই তিনি অত্যন্ত অগোছালোভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এ নিয়ে যাত্রীরা তাকে কয়েকবার সতর্কও করেছিলেন। তার ধারণা, সুয়ালক এলাকার একটি বিপজ্জনক বাঁক ঘোরার সময় চালক ঘুমের ঘোরে ব্রেকের বদলে এস্কেলেটরে চাপ দিয়েছিলেন, যার ফলে গাড়িটি সরাসরি খাদে গিয়ে আছড়ে পড়ে। বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র অফিসার ইকবাল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তারা দ্রুততম সময়ে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর নিশ্চিত করেছেন।
পাহাড়ি জনপদে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও দক্ষ চালক নিয়োগের বিষয়টি এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে পুনরায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ি রাস্তায় রাত্রিকালীন ও ভোরবেলায় গাড়ি চালনার ক্ষেত্রে আরও কঠোর তদারকি এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।