Views: 3
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চপর্যায়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। আজ রোববার সেনা সদর দপ্তর থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং গোয়েন্দা সংস্থায় নতুন নেতৃত্ব যুক্ত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায় যে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাইনুর রহমানকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক) থেকে বদলি করে সেনা সদর দপ্তরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল করা হয়েছে। পদোন্নতি পাওয়ার পর তাঁকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পিএসও হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
একাধিক বিভাগীয় কমান্ডেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলামকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারের (ইবিআরসি) কমান্ড্যান্ট হিসেবে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার ইবিআরসির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিমকে বদলি করে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি করা হয়েছে। এছাড়া ভারতের বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত ডিফেন্স অ্যাডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাফিজুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে মেজর জেনারেল করা হয়েছে এবং তাঁকে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সেনাবাহিনীর এই রদবদলের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) শীর্ষ পদের পরিবর্তন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, ডিজিএফআইয়ের বর্তমান মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হচ্ছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন এম অ্যান্ড কিউ পরিদপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কায়সার রশিদ। কায়সার রশিদকে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে ডিজিএফআইয়ের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সেনাবাহিনীর এই নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ রদবদল সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই নতুন রদবদল সামরিক ও গোয়েন্দা কাঠামোর গতিশীলতা আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাঁদের পেশাদারিত্বের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলেই দেশবাসীর প্রত্যাশা।