Views: 18
নবনির্বাচিত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করার পরপরই মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব শেষে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বিশেষ বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন। এই অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত সদস্যদের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরেই সেনা সদস্যদের মাঠ থেকে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তিনি একটি বিশেষ শর্তের কথা উল্লেখ করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুলিশ বাহিনী পুরোপুরি বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত সহায়তার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর একটি নির্দিষ্ট অংশ মাঠ পর্যায়ে মোতায়েন থাকবে।’ অর্থাৎ, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে হুট করে নয়, বরং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ধাপে ধাপে সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিকূল ও অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিবেশে সেনা সদস্যদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, সেনাসদস্যরা যে চমৎকার দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য এবং উচ্চমানের পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। গত দেড় বছরের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীর ত্যাগ ও কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি সকল সদস্যের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের এই সংকটকালে সেনাবাহিনীর ভূমিকা জাতি দীর্ঘকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সেনাপ্রধান পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে ধৈর্য ও সহনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।’ এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের বীরত্ব ও দক্ষতার কথাও তিনি তাঁর ভাষণে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। একটি আধুনিক ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে দেশ ও বিদেশের মাটিতে সেনাবাহিনীর এই সাফল্য অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়তে সেনাবাহিনী তাদের অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এখন নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে সেনাবাহিনী পুনরায় তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ব্যারাকে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুলিশ ও অন্যান্য বেসামরিক প্রশাসন সম্পূর্ণ সচল না হওয়া পর্যন্ত তারা ছায়া হিসেবে পাশে থাকবে, যা জনমনে স্বস্তি বয়ে আনবে।