মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

নতুনবাজারে অনিয়মের দায়ে মাংসের দোকান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা
মো. জয়নাল আবেদীন, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: / ১৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কাপ্তাই নতুনবাজারে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রানা দেবনাথ একটি মাংসের দোকানে মূল্য তালিকা যাচাই করছেন এবং পুলিশ সদস্যরা পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।
কাপ্তাই নতুনবাজারে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রানা দেবনাথ একটি মাংসের দোকানে মূল্য তালিকা যাচাই করছেন এবং পুলিশ সদস্যরা পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।

Views: 10

৪৪

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে উপজেলার নতুনবাজার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মাংসের দোকান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তা-অধিকারের এই আকস্মিক অভিযানে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ এক ঘণ্টা ব্যাপী এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেন রাঙামাটি জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রানা দেবনাথ। অভিযান চলাকালে নতুনবাজারের বিভিন্ন দোকান ও ক্লিনিকে পণ্যের মান এবং মূল্য তালিকা যাচাই করা হয়। এসময় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হয়।

প্রথমেই বাজার তদারকির সময় দেখা যায়, মো. আমান উল্লাহর মালিকানাধীন ‘আমান উল্লাহ মাংসের দোকানে’ কোনো মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হচ্ছে না। এই অপরাধে আইনের ৩৮ ধারায় তাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর একটি পোল্ট্রি দোকানে অভিযান চালিয়ে ফ্রিজে অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়মিতভাবে মুরগির মাংস সংরক্ষণ করার প্রমাণ পাওয়া যায়। জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আইনের ৪১ ধারায় আরও ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বাজারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের দিকেও নজর দেয় আভিযানিক দলটি। এসময় কাপ্তাই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। সাধারণ রোগীদের সেবার নামে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করায় মালিক মহিম চাকমাকে আইনের ৫১ ধারায় ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়।

এই অভিযানে কাপ্তাইয়ের মার্কেটিং অফিসার অভিজিৎ বড়ুয়া প্রসিকিউটরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া কাপ্তাই থানার পুলিশ সদস্যদের একটি চৌকস দল আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। সহকারী পরিচালক রানা দেবনাথ জানান, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এই ধরনের কঠোর তদারকি নিয়মিত চলবে। আসন্ন দিনগুলোতে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে আরও বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

কাপ্তাই নতুনবাজারে ভোক্তা-অধিকারের এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের প্রশংসায় ভাসছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, কেবল জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত নজরদারি ও লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মতো স্পর্শকাতর স্থানে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update
PhotoCard Icon
Create PhotoCard