Views: 10
আসন্ন ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ সারাদেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান জানান, দিবসটি ঘিরে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তাজনিত সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি নেই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও দেশব্যাপী র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
র্যাব মহাপরিচালক স্পষ্ট করে বলেন যে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনে আসা সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শহীদ মিনার এলাকায় সব ধরণের নিরাপত্তা প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর পার্শ্ববর্তী পুরো এলাকাকে মোট ৬৪টি শক্তিশালী সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। র্যাবের কন্ট্রোল রুম থেকে এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। এর পাশাপাশি শহীদ মিনার এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড সার্বক্ষণিক মোতায়েন থাকবে।
শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকা নয়, বরং দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যেখানেই শহীদ বেদি রয়েছে এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে, সব জায়গাতেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র্যাব মহাপরিচালক আশ্বস্ত করেন যে সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন, সেজন্য র্যাব সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনো ধরণের অপতৎপরতা সুযোগ না পায়।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচি প্রসঙ্গেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন র্যাব প্রধান এ কে এম শহিদুর রহমান। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে এখন থেকে বিভিন্ন দাবি আদায়ের নামে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোনো ধরণের কার্যক্রম বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। মানুষের চলাচল ও জানমালের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করা হলে র্যাব কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শহীদ দিবসের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি সর্বস্তরের নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেন।
র্যাব মহাপরিচালকের এই জোরালো আশ্বাসের ফলে ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও র্যাবের কঠোর নজরদারির মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় দিবসের মর্যাদা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই তৎপরতা অত্যন্ত সময়োপযোগী।