Views: 7
গাজীপুরে বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা ও পূর্ণ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। অমর একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহিদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা পুলিশ ‘মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬’ পালন করেছে। রাত ১২টা বাজার আগে থেকেই শহিদ মিনার এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় এবং ১২টা ০১ মিনিটে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ০১ মিনিটে গাজীপুর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শরিফ উদ্দীন। তিনি ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে পুলিশ সুপার শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান ভাষা আন্দোলনের বীর সন্তানদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন। তাঁর এই শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এক গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ সময় পুলিশ সুপারের সাথে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা পুলিশের একদল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ আবু খায়ের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জনাব খন্দকার আশফাকুজ্জামান বিপিএম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন। এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জনাব আমিনুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) জনাব মাহবুবুর রহমানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পুলিশ সুপার গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বলেন যে একুশের চেতনা আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার শিক্ষা দেয়। গাজীপুর জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের জাতীয় দিবসগুলোর মর্যাদা রক্ষায় সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং শহিদ দিবসের পবিত্রতা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সারিবদ্ধভাবে জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন।
গাজীপুর জেলা পুলিশের এই শ্রদ্ধা নিবেদন অমর একুশের চেতনাকে সমুন্নত রাখার একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং যথাযথ মর্যাদায় ভাষা শহিদদের স্মরণ করার এই আয়োজন জেলাবাসীর মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পুলিশ প্রশাসনের এমন অংশগ্রহণ ও তদারকির ফলে সাধারণ মানুষও নিরাপদ পরিবেশে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন।