Views: 8
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে মূলত ‘উত্তম কৃষি চর্চা’ বা গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (GAP) সনদীকরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে কৃষকদের বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) কাপ্তাই হর্টিকালচার ট্রেনিং সেন্টারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাহাড়ি জনপদের কৃষি অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
এই প্রশিক্ষণটি মূলত বিশ্বব্যাংক (The World Bank) এবং ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (IFAD)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (PARTNER)” কর্মসূচির আওতায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি হাতে নেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রগতিশীল কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন, যারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ চলাকালীন কৃষি বিশেষজ্ঞরা স্থানীয় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের সুফল এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে কৃষিপণ্যের মান বজায় রাখতে GAP বা উত্তম কৃষি চর্চা কেন প্রয়োজন, সে বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হয়। আয়োজকরা জানান, কৃষিপণ্যের সঠিক গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারলে কৃষকরা যেমন ফসলের ভালো দাম পাবেন, তেমনি সাধারণ মানুষ বিষমুক্ত ও নিরাপদ পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্য ভোগ করতে পারবে। বিশেষ করে পাহাড়ের মাটির উর্বরতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়, তার একটি রূপরেখা কৃষকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক ও ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ হয়ে উঠবেন। এটি কেবল উৎপাদন বৃদ্ধিতেই নয়, বরং কৃষকদের একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং জানান যে, উত্তম কৃষি চর্চা বা GAP সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়ার ফলে তারা এখন থেকে আরও বৈজ্ঞানিক ও টেকসই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারবেন। দেশের সামগ্রিক কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রশিক্ষণটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাপ্তাইয়ে উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) প্রশিক্ষণের এই সফল আয়োজন পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষি খাতে নতুন গতির সঞ্চার করবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের কৃষি রপ্তানি যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে এটি টেকসই ভূমিকা পালন করবে।