সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

সিকিউরিটি গার্ডকে কু/পিয়ে মালামাল লুট: অবশেষে ধরা পড়ল রাহুল বাহিনী
মো. সোহেল মিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৫১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
গাছা থানা পুলিশের অভিযানে উদ্ধারকৃত ল্যাপটপ, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং জব্দকৃত দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতারকৃত আসামিদের ছবি
গাছা থানা পুলিশের অভিযানে উদ্ধারকৃত ল্যাপটপ, কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং জব্দকৃত দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতারকৃত আসামিদের ছবি

Views: 27

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এক বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। একটি চাঞ্চল্যকর দস্যুতা মামলার প্রধান দুই পরিকল্পনাকারীসহ মোট ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ, ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযানে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই সাঁড়াশি অভিযানের ফলে মহানগরীর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গাছা থানাধীন ইয়াকুব আলী মার্কেট সংলগ্ন মেসার্স শাফিন প্যাকেজিং এন্ড প্রিন্টিং প্রাঃ লিঃ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে এক দুর্ধর্ষ দস্যুতার ঘটনা ঘটে। দস্যুরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড মিজানুর রহমানকে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি গাছা থানায় একটি দস্যুতা মামলা (মামলা নং-১৬) দায়ের করা হয়। মামলাটির রহস্য উদঘাটনে তখন থেকেই কাজ করছিল পুলিশের একটি বিশেষ টিম।

পরবর্তীতে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সরাসরি নেতৃত্বে একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ কলমেশ্বর এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। আজ ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত ২টার দিকে দস্যুতা মামলার প্রধান দুই কুচক্রী আসামি রাহুল খান (২৫) ও মোঃ শাকিল হোসেনকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লুণ্ঠিত একটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটারের সিপিইউ, একটি ডিভিআর এবং একটি কিবোর্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দস্যুতার সময় ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরা ও একটি পেপার কাটার চাকু জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ২০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি রাহুল খানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, মারামারি এবং পর্নোগ্রাফি আইনসহ মোট ৭টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সে এলাকায় একজন চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে পরিচিত। এই বিশেষ অভিযানে দস্যুতা মামলার ২ জন ছাড়াও মাদকের মামলায় ৩ জন এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে আরও ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোট ৯ জন আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। অপরাধ দমনে গাছা থানা পুলিশের এমন তৎপরতা ভবিষ্যতে অপরাধীদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এই সফল অভিযান মূলত অপরাধীদের প্রতি জিরো টলারেন্স নীতিরই প্রতিফলন। গাছা থানা পুলিশের এমন বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা বোধ করছেন এবং এলাকায় অপরাধ প্রবণতা হ্রাসে এটি দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update