Views: 19
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব ও মানবাধিকার সুরক্ষায় এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশের সুপরিচিত সংস্থা ‘আইনী সহায়তা কেন্দ্র আসক ফাউন্ডেশন’। জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (UN ECOSOC) আসন্ন নির্বাচনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রথম অবস্থান অর্জন করে সংস্থাটি বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই বিরল স্বীকৃতি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গেল।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ বা ইকোসক (United Nations Economic and Social Council) হলো বিশ্ব সংস্থাটির এমন একটি অঙ্গ, যা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহযোগিতা এবং উন্নয়নের বিষয়গুলো তদারকি করে। এর অধীনে পরিচালিত ‘কমিটি অন এনজিওস’ মূলত নির্ধারণ করে বিশ্বের কোন সংগঠনগুলো জাতিসংঘের ‘পরামর্শমূলক মর্যাদা’ বা ‘কনসালটেটিভ স্ট্যাটাস’ লাভ করবে। এই মর্যাদা অর্জনের মাধ্যমে আসক ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনগুলো জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সভাগুলোতে বক্তব্য প্রদান, নীতিগত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ এবং বৈশ্বিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পায়।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আসক ফাউন্ডেশনের প্রথম অবস্থান অর্জন সংস্থাটির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের পরিচয় দেয়। দীর্ঘ দিন ধরে মানবাধিকার রক্ষা, আইনি সহায়তা প্রদান, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক অধিকার আদায়ের লড়াকু ভূমিকার কারণেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, কমিটির নির্বাচন প্রক্রিয়া অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও কঠোর মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে হয়, যেখানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শীর্ষস্থান ধরে রাখা সংস্থাটির বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আসক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থায় নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বরকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর করে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংস্থাটির এই সক্রিয় সম্পৃক্ততা মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এই অর্জনের মাধ্যমে সংস্থাটি এখন থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালো সুপারিশ পেশ করতে পারবে, যা দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সহায়ক হবে।
এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জন ভবিষ্যতে আসক ফাউন্ডেশনকে বৈশ্বিক পরিসরে আরও বড় পরিসরে কাজ করার পথ সুগম করে দিল। মানবাধিকার সংরক্ষণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংস্থাটি এখন থেকে আরও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের মতে, এশিয়া-প্যাসিফিকে প্রথম হওয়া তাঁদের দায়িত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামীতে মানবাধিকারের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ে আসক ফাউন্ডেশন আরও বিস্তৃত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।