মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন

কাপ্তাইয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড; ৩ দোকান পুড়ে ছাই, বিপুল ক্ষয়ক্ষতি
মো জয়নাল আবেদীন, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি: / ২২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কাপ্তাইয়ের রাইখালী বাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর পুড়ে যাওয়া দোকানের ধ্বংসস্তূপের সামনে বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কাপ্তাইয়ের রাইখালী বাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর পুড়ে যাওয়া দোকানের ধ্বংসস্তূপের সামনে বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Views: 13

৫৩

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নের রাইখালী বাজার সংলগ্ন মাঝিপাড়া এলাকার বটতলা নামক স্থানে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মালামাল ও অবকাঠামো মিলিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরে হঠাৎ করেই রাইখালী বাজারের বটতলা এলাকায় আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাঙ্গুনিয়া ইউনিটের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আগুন বাজারের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তিনটি দোকানের মালিকদের পরিচয় পাওয়া গেছে। পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোর মধ্যে দেবু বড়ুয়ার (৪৭) মোটর পার্টস ও গাড়ির ব্যাটারির দোকানটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্যওসিং অং মারমার (৪০) একটি চায়ের দোকান আগুনে আংশিক ও আসবাবপত্রসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রশান্ত বড়ুয়ার (৫২) একটি গাড়ির গ্যারেজ আগুনে পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালিকরা জানিয়েছেন, হুট করে লাগা এই আগুনে তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সম্বল নিমেষেই শেষ হয়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয়দের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, চায়ের দোকানের লাকড়ির চুলা থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বাতাসের কারণে চুলা থেকে নির্গত আগুনের ফুলকি দ্রুত আশপাশের দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে আসায় তা ভয়াবহ রূপ নেয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

শীতকালীন এই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় আগুনের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। রাইখালীর এই অগ্নিকাণ্ড আবারও বাজার ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নি-নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। ব্যবসায়ীদের রান্নার চুলা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া জরুরি। রাইখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যেন দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেজন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update
PhotoCard Icon
Create PhotoCard