Views: 2
বসন্তের আগমনে প্রকৃতি সেজেছে এক অনন্য রূপে। বিশেষ করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশ এখন গোলাপি আর সাদা ফুলের চাদরে ঢাকা। রাস্তার বিভাজকে পরিকল্পিতভাবে লাগানো ‘ক্যাসিয়া রেনিজেরা’ (Cassia renigera) ফুলের এই চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন শত শত মানুষ। তবে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট দিয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা খাইরুল বাশার। তার এই পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
অভিনেতা খাইরুল বাশার তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে মহাসড়কের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের ছবি শেয়ার করে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “এই সৌন্দর্য দেখতে গিয়ে ভিড় জমিয়ে মহাসড়কটিকে বিপজ্জনক এবং নিজের জীবনকে ঝুঁকিমুখী করবেন না প্লিজ”। তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, দর্শনার্থীরা যেন বাইকের তেল খরচ বা যাতায়াত খরচ বাঁচিয়ে সেই অর্থে নিজ উদ্যোগে অন্তত দুটি করে ফুলের গাছ নিজের বাড়ির উঠানে বা পথঘাটে রোপণ করেন। তার মতে, এতে কেবল একটি পথ নয়, বরং পুরো দেশই ফুলেল হয়ে উঠতে পারে। তার এই ইতিবাচক চিন্তা ও পরিবেশবান্ধব আহ্বান নেটিজেনদের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
খাইরুল বাশারের এই পোস্টের নিচে মন্তব্যের ঘরে নেটিজেনদের মাঝে এক ধরণের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও দেখা গেছে। অনেক মন্তব্যকারী এই বৃক্ষরোপণ এবং মহাসড়কের সৌন্দর্যকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ তাকে ‘ফ্যাসিস্ট নয়, বরং একজন আর্টিস্ট’ বলে অভিহিত করেছেন। আবার অনেকের মতে, এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক নতুন রূপ যা পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে ভাইরাল হওয়ার পর অতিরিক্ত টিকটকার এবং দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার শঙ্কাও বাড়ছে বলে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা মন্তব্য করেছেন।
গাজীপুর সদর উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন এই গাছগুলো এখন স্থানীয়দের কাছে অনেকটা ‘জাপানের চেরি ব্লসম’ এর মতো অনুভূতি দিচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ এই ফুলের সঠিক বাংলা নাম ‘রক্তকাঞ্চন’ বা ‘শ্বেতকাঞ্চন’ ব্যবহারের ওপরও জোর দিয়েছেন। সাধারণ মানুষ এবং পরিবেশবাদীরা দাবি তুলেছেন যেন দেশের প্রতিটি হাইওয়েতে একইভাবে পরিকল্পিতভাবে দেশি-বিদেশি ফুলের গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়। খাইরুল বাশারের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের এমন সচেতনতামূলক প্রচার আগামী দিনে পরিবেশ রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহাসড়কের এই মায়াবী রূপ রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং পরিবেশের ক্ষতি না করার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। খাইরুল বাশারের এই আহ্বান যদি প্রতিটি নাগরিক পালন করেন, তবে সারা বাংলাদেশই একদিন এমন ফুলেল ও নান্দনিক হয়ে উঠবে।