Views: 11
বাংলা ভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হলে এবং একে প্রকৃত অর্থে মায়ের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান পরিহার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যটি করেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয় এবং বাংলা ভাষাকে যদি সত্যি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তবে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ জাতীয় স্লোগান বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়। তাঁর মতে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ বা ইনকিলাব মঞ্চ—এগুলোর সঙ্গে বাংলা ভাষার কোনো ঐতিহাসিক বা আত্মিক সম্পর্ক নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইনকিলাব শব্দটি মূলত অন্য প্রান্তের ভাষা এবং যারা একসময় আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, এই শব্দগুলো তাদেরই পরিচায়ক। বর্তমান প্রজন্মের মুখে এই জাতীয় শব্দের ব্যবহার দেখে তিনি মর্মাহত হন এবং একে শিক্ষকদের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ পরিবর্তনের আশায়। কিন্তু বর্তমানে সমাজ উল্টো দিকে হাঁটছে দেখে তিনি ব্যথিত। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন যে, সত্য কথা বললে হয়তো তাঁকে ভিন্ন দেশের দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে, তবুও তিনি পিছপা হবেন না। কারণ তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং দেশের সেবা করার জন্যই মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি ব্রিটিশদের শোষণের ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশরা এই দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে গেছে এবং আমাদের রাষ্ট্রভাষাকে শোষণ ও দমনের হাতিয়ার হিসেবে চেপে ধরা হয়েছিল।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ৫৪ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মরণ করে বলেন যে, তাঁরাই বাংলাদেশে বাঙালির আবাস্থলের প্রথম বীজ বপন করে গিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছিল। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে, তোমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে; অন্যথায় দেশ চরম ডানপন্থার (এক্সট্রিম রাইট) দিকে ধাবিত হবে। জাতীয়তাবোধের অভাব প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, আমরা নিজের ভাষাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মাঝে সুদৃঢ় জাতীয়তাবাদ গড়ে ওঠেনি। পরিশেষে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, নিজের ভাষা ও নিজের দেশ আমাদের নিজেদেরই গড়তে হবে, বাইরের কেউ এসে তা গড়ে দেবে না।
বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর এই বক্তব্য ভাষা দিবসের তাৎপর্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর মতে, ভাষাগত বিশুদ্ধতা এবং দেশপ্রেমের সঠিক চর্চাই পারে একটি জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষার মৌলিকত্ব বজায় রাখার আহ্বানটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।