মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

বগুড়ায় মসজিদের ইমামকে অব্যাহতিতে ক্ষোভ; নেপথ্যে চার সদস্যের গোপন সিদ্ধান্ত!
নাজমুল হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: / ৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Views: 5

৩২

বগুড়া পৌরসভার ২১ নং ওয়ার্ডের বেজোড়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় জান্নাতুল জামে মসজিদের ইমামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে জনমনে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করা ইমাম আবু হানিফকে মাত্র চারজনের একটি গোপন বৈঠকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়ায় এলাকায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এভাবে ইমামকে অপসারণ করা ধর্মীয় ও নৈতিক মানদণ্ডে অনভিপ্রেত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমাম আবু হানিফ দীর্ঘ সময় ধরে বেজোড়া দক্ষিণপাড়া জান্নাতুল জামে মসজিদে সততা ও ধর্মীয় আদর্শ মেনে ইমামতি করে আসছিলেন। তবে প্রায় দেড় মাস আগে একটি ক্ষুদ্র পরিসরের বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় মসজিদ কমিটির অধিকাংশ সদস্য কিংবা সাধারণ মুসল্লিদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। মাত্র কয়েকজনের একক সিদ্ধান্তে একজন জনপ্রিয় ইমামকে অপসারণের ঘটনায় সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মসজিদের সাধারণ সদস্যদের একাংশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইমাম আবু হানিফ কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং সামাজিকভাবেও তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে যে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ হওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো ভিত্তি মসজিদ কমিটি প্রকাশ করতে পারেনি। এলাকাবাসীর দাবি, যদি ইমামের কোনো আচরণ নিয়ে বিতর্ক থেকে থাকে, তবে তা প্রকাশ্যে সবার সামনে উপস্থাপন করে স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। লোকচক্ষুর আড়ালে চারজনের সিদ্ধান্তে এমন পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা এখন বর্তমান মসজিদ কমিটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকের মতে, যদি সামান্য কারণে ইমামকে পরিবর্তন করা যায়, তবে এই একতরফা সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী কমিটি কেন বহাল থাকছে? ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা বজায় রাখতে এবং সমাজের ঐক্য অটুট রাখতে যেকোনো সিদ্ধান্ত মুসল্লিদের সম্মতির ভিত্তিতে হওয়া বাঞ্ছনীয়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও একজন ইমামকে হঠাৎ করে সরিয়ে দেওয়া তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের জন্য চরম অসম্মানজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমান পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং সংলাপের মাধ্যমে একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রত্যাশা করছে বেজোড়া দক্ষিণপাড়াবাসী।

বেজোড়া দক্ষিণপাড়া জান্নাতুল জামে মসজিদের এই সংকট কেবল একজন ইমামের পদ হারানো নয়, বরং একটি সামাজিক ও ধর্মীয় শৃঙ্খলার প্রশ্ন। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি স্বচ্ছ সমাধান আসবে যা মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা করবে এবং মুসল্লিদের মাঝে পুনরায় আস্থা ও শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update
PhotoCard Icon
Create PhotoCard